জাতিসংঘের তৈরি স্বল্পোন্নত দেশের ক্লাব থেকে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্নাতক হয়ে বের হওয়ার কথা। এরপর দেশ সম্মান ও মর্যাদার আসনে আসীন হবে; বিশ্বের নানা দেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা এখানে অনাস্বাদিত সম্পদ আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে ভিড় জমাবে, আমাদের আয় ও জীবনমান বৃদ্ধি পাবে, আমরা উন্নত জীবনের অধিকারী হব এ আমাদের বিশ্বাস। কভিডের আগ পর্যন্ত আমরা ভালোই এগোচ্ছিলাম, দেশ-বিদেশ থেকে মুফতে অনেক প্রত্যয়নপত্র পাচ্ছিলাম। কভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গের এই ঘোর বিপদের মধ্যেও আশাজাগানিয়া তকমার কোনো কমতি নেই; এইচএসবিসির প্রাক্কলন বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতির দেশ হবে। কিন্তু টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে যেসব নীতি ও কাঠামোগত উন্নতি ও অগ্রগতি প্রয়োজন, সেগুলোর বেশ কিছুর অবস্থা কিন্তু আশানুরূপ বার্তা দেয় না। দেশের অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বেগবান ও টেকসই করতে নাগরিকদের উদ্ভাবনী শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে দেশ যখন আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কড়া প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। কিন্তু মানবিক সম্পদ সংশ্লিষ্ট অনেক সূচকের মতো বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকেও দেশের অবস্থান তলানিতে। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব সংস্থার ২০১৯ সালে করা বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬তম; নিম্ন-মধ্য আয়ের ২৯টি দেশের মধ্যে ২৪তম এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ১০টি দেশের মধ্যে দশম।
বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচক আসলে অর্থনীতির ৭টি স্তম্ভের আওতায় বিরাজমান ৮০টি স্থিতিমাপের এক যৌগিক পরিমাপ। মোটা দাগে স্তম্ভগুলো হলো প্রতিষ্ঠান, মানবিক পুঁজি ও গবেষণা, অবকাঠামো, বাজার পরিশীলন, ব্যবসা পরিশীলন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি, পণ্য এবং সৃজনশীল পণ্য। দেখা যাচ্ছে যে, উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রগতি করতে অবকাঠামো, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে, সরকারি ও বেসরকারি উভয়পর্যায়ে উদ্ভাবনের অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, উদ্ভাবকদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে এবং উদ্ভাবিত পণ্য প্রয়োজনে পরিশীলিত করে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণাপ্রসূত জ্ঞানের অবস্থা নাজুক। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ১৯৯৬-২০১৭ সময়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা যেখানে ৩৮,৮৯৭টি সাইটেবল বৈজ্ঞানিক দলিল স্বীকৃত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছে, সেখানে ওই একই সময়ে নাইজেরিয়ার বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেছেন ৭১,০৪৬টি দলিল, ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা করেছেন ১,২১,৮৩৬টি, হংকংয়ের বিজ্ঞানীরা করেছেন ২,৪৫,৬২৯টি দলিল। এই পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও মানের অভাব এবং গবেষণায় অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২৫টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একুনে ১৫৩ কোটি টাকা গবেষণায় ব্যয় করেছে, যার প্রতিষ্ঠান প্রতি গড় পরিমাণ ১.২২ কোটি টাকা মাত্র! দেশের প্রধান বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ৯.৫০ কোটি টাকা; ২০২২ সালে বরাদ্দ ১১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.৩২ শতাংশ মাত্র। এই বছর অতিমারীর মধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এর কতটুকু সঠিকভাবে খরচ হবে, কে জানে?
আমাদের উদ্ভাবকরা মাঝেমধ্যে শুধু নিজেদের মেধা আর উৎসাহের পুঁজিতে অনেক মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করে চমকে দেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উৎসাহে ভাটা পড়ে যায়। বুয়েটের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, দেশে ব্যাংক-বীমা থেকে শুরু করে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান অটোমেশনের জন্য বিদেশ থেকে মহার্ঘ্য মূল্যে সফটওয়্যার আমদানি করে নির্ভরযোগ্যতার
পরিতৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। অথচ বঙ্গসন্তানরা এখন অনেক জটিল প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার তৈরিতে সক্ষমতা অর্জন করেছেন; রপ্তানিও করছেন। কিন্তু দেশে কল্কে পাচ্ছেন না; কল্কের জন্য তাদের যেতে হচ্ছে ভিনদেশে। খাদ্য অধিদপ্তরে এখন ৫টি সাইলো রয়েছে। এর মধ্যে আগের তৈরি ৪টির ওজনের সফটওয়্যার জার্মানি থেকে আনা; কিন্তু তার চাবি তাদের কাছেই রাখা। এখন সফটওয়্যারে কোনো গোলমাল দেখা দিলে তাদের উড়োজাহাজে ভাড়া করে এনে সেগুলো ঠিক করতে হয়। মহাপরিচালক থাকাকালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আইনানুগ পদ্ধতিতে সেটা বাতিল করে বুয়েটকে এই দায়িত্ব দিতে উদ্যোগী হয়েছিলাম। কিন্তু ওপরে-নিচে কেউই আমার এই ‘হঠকারী’ উদ্যমে সায় দেননি। ফলে ওই কাজ আর শুরু করতে পারিনি। এ অবস্থা দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও উন্নয়নে আদৌ সহায়ক নয়। এখনো আমরা দেশীয় প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয়মুক্ত নই; কিন্তু বিদেশি প্রযুক্তিও কি শতভাগ নির্ভরযোগ্য? বাংলাদেশ ব্যাংকের তো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খোয়া গেল বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করেও?
দেশে এখন বড় বড় করপোরেট হাউজ ও শিল্পগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন (R & D) ইউনিট নেই; নামকাওয়াস্তে থাকলেও সেগুলোর তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠিন প্রতিযোগিতার মাঝে টিকে থাকা, ব্যবসার প্রসার ঘটানো এবং রপ্তানিতে সাফল্য আনতে হলে নতুন নতুন পণ্য যেমন নিয়ে আসতে হবে, তেমনি পণ্যকে করতে হবে ডিজাইনে নজরকাড়া, মানে শ্রেয়তর ও মূল্যে সাশ্রয়ী। আধুনিক ও উন্নত মানের ‘আরঅ্যান্ডডি’ বিভাগই কেবল এই কাজগুলো সফলভাবে করতে পারে। বিজনেস হাউজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য জয়জয়কার অবস্থা সৃষ্টি করা যায়। কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেতে বিশ্বে যতগুলো ভ্যাকসিন এসেছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে আসা একটি ভ্যাকসিন হলো কোভিশিল্ড, যেটি উদ্ভাবিত হয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা নামক একটি ব্রিটিশ-সুইডিশ বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে দৌড়ে পেছনে ফেলে ১৯৬৯ সালে যে প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠে পদার্পণ করতে সমর্থ হয়, তার পেছনে ছিল নাসার ((National Aeronautics and Space Administration, NASA) সঙ্গে এমআইটির (Massachusetts Institute of Technology) সহযোগিতা।
কোনো দেশে উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরিতে সেখানকার সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালে ব্লুমবার্গের করা উদ্ভাবনের মর্যাদাক্রমে ১ নম্বরে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা এখানে প্রাসঙ্গিক। কোরিয়ার চমকপ্রদ অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ভূমিকাকে সব সময় বড় করে দেখা হয়। শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশটি ১৯৬২ সালে প্রথম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা শুরু করে। ওই সময় মানুষের মাথাপিছু জিএনপি ((GNP) ছিল ৮৭ (১৯৮০ সালের স্থির মূল্যে) মার্কিন ডলার। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৫ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৩৯০ মিলিয়ন। জিএনপিতে শিল্প খাতের অংশ ছিল ১৫ শতাংশ মাত্র। বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র দুটি : National Defence R&D Institute এবং Korea Atomic Energy Research Institute। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর মিলে গবেষক বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারেরও কম। কিন্তু পরবর্তী চার দশকে তারা উন্নয়নের শিখরে উঠে যায়, যেখানে যেতে শিল্পোন্নত পশ্চিমা বিশ্বের এক শতাব্দী লেগেছিল। উন্নয়ননীতি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব ছিল এই দ্রুত গতিশীল উন্নয়নের গূঢ় রহস্য।
প্রথম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় বিদেশি অর্থায়ন ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা থাকলেও লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির অন্তর্মুখী স্থানান্তরকরণ, সেগুলো স্থানীয়ভাবে অঙ্গীভূতকরণ, দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং হস্তান্তরিত প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন। সত্তরের দশকে এ লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়ে যায় বড় পুঁজি ও প্রযুক্তি-নিবিড় শিল্পের অনুকূলে। এ সময় সরকার ইলেকট্রনিকস, কলকবজা, রাসায়নিক প্রযুক্তি, পণ্যমান, জ্বালানি, সমুদ্র বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ১৯৬৭ সালে পাস করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আইন এবং বিজ্ঞান শিক্ষা আইন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে প্রণয়ন করে Korea Advanced Institute of Science Act, যার অধীনে Korea Advanced Institute of Sciences & Technology (KAIST) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান উঁচুমানের গবেষণাকাজে নিবেদিত। আশির দশকে বেসরকারি সেক্টরে গবেষণা ও উদ্ভাবন কাজকে উৎসাহিত করতে ব্যাপকভাবে প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং কর হ্রাসের নীতি গ্রহণ করা হয়। এজন্য সরকার বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও সেক্টরভিত্তিক তহবিল গঠন করে। শুধু তা-ই না, উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি-পণ্যের চাহিদা সমুন্নত রাখতে সরকার সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করে। এ সময় গবেষণা ও উদ্ভাবন কাজে সহায়তার জন্য সরকার ২৫৯টি কর্মসূচি চালু করে। ১৯৮৪ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল জিডিপির ০.৮১ শতাংশ, আর ২০০৭ সালে তার পরিমাণ দাঁড়ায় জিডিপির ৩.৪৭ শতাংশ (৩৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), ২০১৮ সালে ৪.৫৫ শতাংশ (৬৯.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, Business Korea, Nov. 28, 2018)।
বেসরকারি সেক্টরও এ জাতীয় নীতি-সহায়তায় যথেষ্ট পরিপুষ্টতা লাভ করে এবং সক্ষমতা অর্জন করে। ১৯৮৪ সালে বেসরকারি সেক্টরে যেখানে মাত্র ১২৯টি ‘আরঅ্যান্ডডি’ ইউনিট ছিল, সেখানে ২০০৭ সালে তার সংখ্যা দাঁড়িয়ে যায় ১৭,০০০-এর ওপরে। ২০০৭ সালে কোরিয়ায় ‘আরঅ্যান্ডডি’ খাতে মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ মেটানো হয় বেসরকারি সেক্টর থেকে। এই খাতে বিনিয়োগের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, এখানে কোনো বিদেশি তহবিল প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি; পুরোটাই দেশীয় বিনিয়োগ। ফলে সেখান থেকে যা কিছু বের হয়েছে তার সবই কোরিয়ার একান্তই নিজস্ব পণ্য বা সেবা।
উদ্ভাবন বলতে শুধু নতুন নতুন পণ্য বা সেবা প্রবর্তন করে ভুঁইফোড় মুনাফা অর্জনের পদক্ষেপকে বোঝায় না; বিদ্যমান পণ্য ও সেবার গুণগত উৎকর্ষ সাধন, উৎপাদনব্যয় ও সময় হ্রাসকরণ, পণ্য বাজারজাতকরণের সহজ উপায় বের করা, এমনকি পণ্যের নতুন বাজার ও কৌশল বের করাও এক ধরনের উদ্ভাবন। আসলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন হলো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার একটি টেকসই হাতিয়ার; নব নব ধারণা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে প্রতিযোগীর তুলনায় নিজের সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করার প্রচেষ্টা। আর পাবলিক সার্ভিসের বেলায় একই কৌশল প্রয়োগ করে সেবার মানোন্নয়ন করা এবং সেবাদানের সময়, খরচ ও ঝামেলা কমিয়ে ফেলা।
ভারত উপমহাদেশে বাংলা কিন্তু সৃষ্টিশীলতা এবং উদ্ভাবন শক্তিতে অনেক আগে থেকেই অগ্রসর। | What Bengal thinks today, India thinks tomorrow একশ বছর আগে কংগ্রেসের উদারপন্থি নেতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের করা এই মন্তব্য থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোস, জগদীশ চন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, স্থপতি এফ আর খানসহ অনেক বাঙালি সৃষ্টিশীলতায় বিশ্বে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তবে এখনকার এই জটিল বিশ্বে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন হয়। এই তো সেদিন এক বাঙালি বিজ্ঞানী ড. মকসুদুল আলম তোষা পাটের জেনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এর পেছনে ছিল উদার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। দেশের করপোরেট হাউজগুলোতে এখনো যেহেতু গবেষণা ও উন্নয়নকাজে বড় ধরনের বিনিয়োগের সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি, তাই আমাদের উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে এ দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। এ মুহূর্তে দেশীয় একটি ওষুধ কোম্পানি করোনার টিকা আবিষ্কার করার দাবি করছে এবং তা মানুষের ওপর পরীক্ষার অনুমোদন চাচ্ছে। বুয়েটের প্রযুক্তিবিদদের আবিষ্কৃত সস্তায় পরিবহনযোগ্য ভেন্টিলেটর অক্সিজেট ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতের এই জাতীয় সৃষ্টিশীল কাজে আর্থিক, মানবিক, প্রায়োগিক ও কারিগরি দিক থেকে উদার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পুরো সেক্টরকে প্রচণ্ডভাবে উজ্জীবিত করতে পারে; এই সংকটকালে দেশেরও মর্যাদা ও সামর্থ্য বেড়ে যেতে পারে।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক
