ডিজিটাল আইনে মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক তানভীর জামিনে মুক্ত

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ০২:২৬ এএম

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের খাবার পরিবেশনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের ভার্চুয়াল আদালত পুলিশের করা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে সাংবাদিক তানভীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে।

এর আগে করোনা-পরবর্তী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তানভীর। আদালত করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা ও গ্রেপ্তার সাংবাদিকের অসুস্থতার কারণে জামিন মঞ্জুর করে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হালিম ও ইমরান হোসেন। মামলার অন্য দুই আসামি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি আদালত।

সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দৈনিক ইত্তেফাক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক তানভীরকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ডালিম কুমার রায় তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে তানভীরের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় বিচারক আরিফুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন আদেশের পর তানভীরের আইনজীবী আরিফুল ইসলাম জামিননামা আদালতে দাখিল করেন। এরপরই আদালতের হাজতখানা থেকে সাংবাদিক তানভীর মুক্ত হন।

গত শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে সদর থানায় স্থানীয় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তানভীর হাসান তানুকে এক নম্বর আসামি করা হয়। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু এবং নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জাগোনিউজ, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে করোনা রোগীর খাবার নিয়ে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী মানহানিকর’ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ শনিবার রাত ৮টায় সাংবাদিক তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। রাতে থানা হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গতকাল তানভীরকে হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া হয়। এর আগে সকালেই জেলার সব গণমাধ্যমকর্মী এবং তানভীরের স্বজনরা আদালত চত্বরে হাজির হন। তানভীরের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে আসছিল ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

সাংবাদিক তানভীরের মা রানী আক্তার আদালত চত্বরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলে করোনায় আক্রান্ত ছিল। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল তানভীর। এখনো পুরো সুস্থ হননি। গত ৫ জুলাই করোনা পরীক্ষায় তার প্রতিবেদন নেগেটিভ এলেও শরীর এখনো ভীষণ খারাপ।

তানভীরের বাবা আবু তাহের বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করে আসছেন। হাসপাতালের করোনা রোগীদের খাবার বরাদ্দের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও রাকিবুল ইসলাম  চয়ন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছুদিন আগেই সাংবাদিক তানভীর করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। তাই তার কিছুটা শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে। তাকে হাসপাতালে আনার পর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত