গ্রামাঞ্চলে লাগামহীন সংক্রমণ হাসপাতালে শয্যা সংকট

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ০২:৩৬ এএম

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এর মধ্যেও গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েই চলেছে রোগী। বেশিরভাগ হাসপাতালে শয্যা খালি নেই। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এর মধ্যে খুলনা বিভাগের অবস্থা খুবই নাজুক। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় নতুন ১ হাজার ৫৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট শনাক্ত ৭১ হাজার ছাড়াল। নতুন ৬০ জনের মৃত্যু নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৩ জন। খুলনা বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত বছর ১৯ মার্চ। এরপর থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত বিভাগে মোট শনাক্ত হয়েছে ৭১ হাজার ৫৫০ জন। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৪৬ হাজার ২৯৯ জন। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই কুষ্টিয়া জেলায় মারা গেছে ১৩ জন। এছাড়া নড়াইলে ৭, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন করে, মেহেরপুরে ৫, মাগুরায় ৪, ঝিনাইদহে ৩ ও বাগেরহাটে ২ জন মারা গেছে। এর আগে গত শুক্রবার বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা বিভাগে সীমান্তবর্তী জেলা বেশি। বেশিরভাগ মানুষ ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত। স্বাস্থ্যবিধি যেমন মানছে না, গুরুতর সব উপসর্গ থাকার পরও মানুষ নমুনা পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে নিজেরা আক্রান্ত হয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিপদে ফেলছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেই শুধু হাসপাতালমুখী হচ্ছে। এতে মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় নতুন ২৮৪ জন শনাক্ত হয়েছে। নমুনা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৫৯।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃতদের মধ্যে করোনায় ৬ ও বাকিরা উপসর্গে মারা গেছেন। করোনা ইউনিটে নতুন ৭৪ জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬১ জন।

বগুড়ায় তিনটি হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১০ জন, বাকিরা করোনায়। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ৩৭ দশমিক ৫৭।

টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৬ জন শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৭৮। এ সময়ে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় ১৫৯ জনের মৃত্যু হলো।

নাটোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ৭০ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় ১৩৫ জন শনাক্ত হয়েছে, সংক্রমণের হার ৩৩ দশমিক ৮৩।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনায় তিনজন ও বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে নতুন ৯৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ৪২৯ জন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে আইসিউতে রয়েছে ২২ রোগী।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন দেশ রূপান্তরের খুলনা ও রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া, টাঙ্গাইল, নাটোর, নড়াইল ও কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং ময়মনসিংহ সংবাদদাতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত