‘আমি ভাগ্যবান, কারণ আমি জিয়ানলুইজি বুফনের সঙ্গে খেলেছি। আমি ভাগ্যবান, কারণ আমি এখন জিয়ানলুইজি দোন্নারুমার সঙ্গে খেলি।’ ইউরো জয়ী অধিনায়ক ইতালির জর্জিও কিয়েলিনির এই একটা বাক্যই প্রমাণ করে, বুফনের উত্তরসূরি হিসেবে ইতালি সঠিক মানুষটাকেই বেছে নিয়েছে!
২০০৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালি টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। সে সময় ইতালির গোলবারের নিচে ছিলেন পরীক্ষিত জিয়ানলুইজি বুফন। ১৫ বছর পর আবারও টাইব্রেকারে বড় কোনো শিরোপা জিতল আজ্জুরিরা। এবার গোলগোস্টে আরেক জিয়ানলুইজি, দোন্নারুমা। বুফন সে বিশ্বকাপে ইয়াসিন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। কিন্তু সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান। এবার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানো দোন্নারুমা জিতলেন ইউরো ২০২০-এর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। সেমিফাইনাল আর ফাইনালের দুই টাইব্রেকে বলতে গেলে একাই উদ্ধার করেছেন ইতালিকে। সেমিতে আটকে দিয়েছিলেন আলভারো মোরাতার শট। রবিবার ফাইনালে দোন্নারুমা-দেয়ালে বাধা পড়েছে জেডন সানচো আর বুকায়ো সাকার দুই শট।
মাত্র ১৬ বছর ৮ মাস বয়সে এসি মিলানের মূল দলে ছিলেন দোন্নারুমা। ২০১৬ সালে মাত্র ১৭ বছর ৬ মাস বয়সে জাতীয় দলে প্রথম ডাক পান। পরিবারের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। বুফনের বদলি হিসেবে নেমেই ইতালি দলে অভিষেক হয়েছিল তার। ২০১৬ সালে ফ্রান্সের সেই প্রীতি ম্যাচটি ইতালি হেরেছিল ৩-১ গোলে। দোন্নারুমা হজম করেছিলেন এক গোল। মূলত ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত খেলছেন তিনি। ইতালি ২০১৮ বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে পারেনি। তাই এবারের ইউরোই দোন্নারুমার জন্য ছিল নিজেকে চেনানোর বড় মঞ্চ। ইউরোর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কোনো গোল হতে দেননি দোন্নারুমা। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার পেরুনোর পর সেমিফাইনালে স্পেনের সঙ্গে টাইব্রেকে জয় পায় ইতালি। সেখানে ভূমিকা রাখার পর ফাইনালের টাইব্রেকেও দোন্নারুমা ঠেকান ব্যাক টু ব্যাক শট। এই দলটির কারিগর কোচ রবার্তো মানচিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান আমাদের দোন্নারুমা আছে। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে সে পেনাল্টিতে কিছু সেভ করবে। কারণ সে বিশ্বের সেরা গোলকিপার। দুর্দান্ত একজন গোলকিপার দোন্নারুমা।’
ইউরো জয়ের পর দোন্নারুমা বলেন, এটি অসাধারণ এক রাত। আমি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। এর জন্য লিওনার্দো (বনুচ্চি) এবং কিয়েলিনিকে ধন্যবাদ। আমরা খুশি। আমরা দারুণ এক স্কোয়াড। এটি আমাদের প্রাপ্য। প্রথমে গোল হজমই আমাদের ছিটকে দিতে পারত ম্যাচ থেকে। কিন্তু আমরা এমন নই। আমরা লড়াই করি।’
ইউরো জেতা দোন্নারুমা বর্তমানে ফ্রি-এজেন্ট। কিন্তু শিগগিরই সেই ছবি বদলাতে চলেছে। বহুদিন আগে থেকেই পিএসজির সঙ্গে চুক্তি পাকা তার। পিএসজি হয়তো এখন হাঁপ ছেড়েছেÑ ভাগ্যিস দোন্নারুমাকে আগেভাগে দলে ভিড়িয়ে রাখার কাজটা করেছিল তারা! না হয় এই ইতালিয়ান গোলকিপার যা করলেন, নিশ্চিতভাবেই এখন তাকে নিয়ে টানাটানি পড়ে যেত।
