গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আগে থেকেই জানতেন ভোর থেকে হাট বসবে। তাই রাত থেকেই গরু নিয়ে হাজির ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও চলে এসেছেন সূর্য ওঠার আগেই। কাকডাকা ভোরে শুরু হলো হাট। শুরু হয় জমজমাট বেচাকেনা। কিন্তু বাদ সাধলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসে বন্ধ করে দিলেন হাট। জরিমানার ভয়ে গরুর দড়ি ছেড়ে পালালেন অনেকেই। কিন্তু প্রায় পাঁচ ঘণ্টার হাটে বিক্রি হয়ে গেছে শত শত গরু। গরুপ্রতি হাসিল আদায় করা হয় ৪০০ টাকা। উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আমবাড়ী হাটের গতকাল সোমবারের চিত্র ছিল এটি।
‘কঠোর লকডাউনের’ বিধিনিষেধ অমান্য করে এদিন আমবাড়ী হাটে কৌশলে গরুর হাট বসান ইজারাদার। ভোরে গরু ব্যবসায়ীরা শ্যালোচালিত ভটভটি ও ট্রাকে করে হাজার হাজার গরু নিয়ে হাজির হন হাটে। এ সময় হাটে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাট বন্ধ করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত চার গরু ব্যবসায়ীকে ২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করে।
দিনাজপুর সদরের গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও আজিজুল হক বলেন, ‘আমরা জানতাম ভোর থেকে হাট বসবে। তাই সূর্য ওঠার আগেই পাঁচটি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। সকাল ৮টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। আমবাড়ী হাটের ইজারাদার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতি সোম ও শুক্রবার আমবাড়ী হাট বসে। এ বছর ৫ কোটি ১১ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা নিয়েছেন তারা। ভ্যাটসহ ৬ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৭৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে তাদের। গত বছরেও তাদের লোকসান হয়েছে। করোনার কারণে হাট চালানো না গেলে আবারও লোকসান গুনতে হবে তাদের।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, ইজারাদারকে হাট বন্ধ রাখতে বলা হলেও ভোর থেকে হাটে গরু বেচাকেনা শুরু করেছিল। তাই অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হয়েছে হাটটি।
