করোনা পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে চলতি সপ্তাহে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ গতকাল সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি দুটি পাবলিক পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিগগির ব্রিফিং করবেন। পরীক্ষা হবে কি না, না হলে কী উপায়ে ফলাফল দেওয়া হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্ত্রী জানাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত, এসএসসি ৬০ ও এইচএসসি ৮৪ দিন সরাসরি ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার। এ জন্য সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদ্ধতিতে যেতে হলে আগস্টের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। কারণ ৬০ দিন ক্লাস করোনার পর পরীক্ষার আগে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় দিতে হবে প্রস্তুতির জন্য। আবার পরীক্ষা নিতে কমপক্ষে ২৫ দিন সময় লাগবে। অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২০ থেকে ২৫ দিন বিরতি দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করতে হবে।
ইতিমধ্যে জুলাই মাস পুরোটাই ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে না নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো ঝুঁকিতে তারা যাবেন না।
এ অবস্থায় চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষা স্বাভাবিক এবং সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরীক্ষা না নিতে পারলেও বিকল্প পদ্ধতিতে গ্রেড দেওয়া হবে। গত বছরের মতো অটো পাস দেওয়া হবে না। পরীক্ষা না নিতে পারলে বিকল্প চিন্তা করছে এ সংক্রান্ত গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের (বেডু) বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
ঈদের পরপর পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগ দূর করতে পরীক্ষার বিকল্প কী কী হতে পারে তার রোডম্যাপ প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যেহেতু আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না, তাই যত বিকল্প পদ্ধতি আছে, সেগুলোর প্রস্তুতি শেষ করে রাখছি। যখন যেটা প্রয়োগ করা যায়, সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।’
জানা গেছে, কমিটির একাধিক প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন (সিকিউ) বাদ দিয়ে কেবল বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেওয়া। বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একটিতে একীভূত করা। পাশাপাশি ২০০ নম্বরের জায়গায় ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু এই উভয় ক্ষেত্রেই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। অর্থাৎ সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কেন্দ্রের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এসএসসির সম্পর্কে বলা হচ্ছে, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ ও অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে। আর এইচএসসির ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, এসএসসির ফলের ৫০, জেএসসির ২৫ ও অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে।
