নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড কারখানার অগ্নিকান্ডে ৫২ জন নিহতের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি চলছে। ওই ভবন থেকে অনেকেই বেঁচে ফিরেছেন। এর মধ্যে ওই ভবনের অগ্নিকান্ড থেকে বেঁচে ফেরা মফিজুল ইসলাম মফিজ। অগ্নিকান্ডে তিনি বাঁচিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিককে। আগুন থেকে অন্য শ্রমিকদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের নাক-মুখে ও হাতে-পায়ে ব্যথা পেয়ে হয়েছেন গুরুতর জখম। তাতেও যেন কষ্ট নেই তার। তার কারণে কিছু জীবন তো বেঁচেছে।
মফিজুল ইসলাম মফিজ দেশ রূপান্তরকে ওই দিনের অগ্নিকান্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমার বাড়ি গোলাকান্দাইলের নাগেরবাগ এলাকায়। আমি কারখানার দোতলায় কাজ করতাম। ১৫ দিন আগে হাসেম ফুড কারখানার ওই ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকান্ডে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কারখানার। তবে আগুনের ঘটনায় আল-আমিন, সুমন, স্বপনসহ ছয় শ্রমিক আহত হয়। ওই ঘটনায় আমি ১০-১২ জনকে আগুন থেকে বাঁচাই। ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনার পরও সতর্ক হয়নি মালিকপক্ষ। করেনি পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা।’
গত বৃহস্পতিবার কারখানায় কাজ করাকালে নিচতলায় আগুন লেগেছে বলে শুনতে পান মফিজ। তিনি জানান, আগুনের খবরে শ্রমিকরা চারদিকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে থাকে। নিচতলা থেকে আগুন দোতলায় উঠতে থাকে। চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ধোঁয়ার কারণে কেউ কিছু দেখতে পারেনি। জীবন বাঁচাতে এ সময় তিনি কারখানা থেকে একটি ট্রাকের ওপর লাফিয়ে নিচে নেমে যান। নিচে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকদের বাঁচাতে তিনি আবার দোতলায় যান। দোতলায় গিয়ে ওখান থেকে ১০-১২ জন শ্রমিককে তিনি উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন। শ্রমিকদের নামাতে গিয়ে মফিজ নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
