পঞ্চমবারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী দেউবা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০৩:৩৫ এএম

আইনি প্রক্রিয়ায় এবার কে পি শর্মা ওলিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হচ্ছে। গত সোমবার তাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের আদেশ অনুসারে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বিরোধী নেতা শের বাহাদুর দেউবা। মঙ্গলবার বিকেলেই তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

কয়েক মাস ধরে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালাচ্ছিলেন কে পি শর্মা ওলি। নতুন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে আদালতে যান। সেখানে দাবি করা হয়, ওলিকে সরিয়ে দেউবাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করতে হবে। এরপর সংসদে আস্থা ভোটে জেতার চেষ্টা করবেন এ নেতা। সোমবার সেই দাবি মেনে নিয়েছে নেপালের সর্বোচ্চ আদালত।

গত ডিসেম্বরেই নেপাল সংসদের নিম্নকক্ষ মুলতবি করার চেষ্টা করেছিলেন ওলি। কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে যাওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আস্থা ভোটে টিকতে পারবেন না। কিন্তু সেই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট, এতে সংসদ আর মুলতবি হয়নি।

এরপর মে মাসে ২৭৫ সদস্যের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে আস্থা ভোটে হেরে যান ওলি। নিয়ম অনুসারে তাকে তখনই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হতো। কিন্তু আস্থা ভোটে বিরোধীরাও সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারেননি। ফলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হন ওলি। তখন ক্ষমতা ধরে রাখতে সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারির কার্যালয় থেকে তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (৭) ধারা প্রয়োগ করে সংসদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকতে হলে দেউবাকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। নাহলে নেপালের রাজনীতি আরও বড় সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। ৭৪ বছর বয়সী শেহ বাহাদুর দেউবা চারবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭-এর মার্চ পর্যন্ত প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১-০২, ২০০৪-০৫ এবং সবশেষ ২০১৭-১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত