ঋণ জালিয়াতি এবং অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবতে বসা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডকে (পিএলএফএসএল) অবসায়নের পরিবর্তে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলমকে চেয়ারম্যান এবং আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনকে এমডি করে ১০ সদস্যের এ বোর্ড গঠন করেছে হাইকোর্ট। গত সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ আসে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
হাইকোর্টের গঠন করে দেওয়া নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা হলেন, সাবেক সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সাবেক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ হাসান শাহীদ ফেরদৌস, পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি আব্দুল হালিম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কাজী তৌফিকুল ইসলাম, নুর-এ-খোদা আব্দুল মবিন এফসিএ, মওলা মোহাম্মদ এফসিএ, সঞ্চয়কারীদের প্রতিনিধি ড. নাশিদ কামাল এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নুরুল কবির।
পিএলএফএসএলের ২০১ জন আমানতকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে গত ২৮ জুন এক আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় এ পরিচালনা বোর্ড গঠন করল আদালত।
পিএলএফএসএলের সাময়িক অবসায়কের (প্রবেশনাল লিক্যুইডেটর) পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মেজবাহুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবিত হলো। এটি এখন সাময়িক অবসায়ক চালাবে না। পরিচালনা বোর্ড এটি চালাবে।’
অর্থ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একটি পিপলস লিজিং। ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসান দেয় এই কোম্পানি। খেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারেনি তারা। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদনটি গ্রহণ করে এর সাময়িক অবসায়ককে তলব করে হাইকোর্ট। গত বছরের নভেম্বরে অবসায়ককে পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপিদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮৬ জন ঋণখেলাপির নাম আসে। গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে তাদের আদালতে এসে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়। তলবের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে ১২২ জন হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিলেও ১৬৪ জন হাজির হননি। যারা হাজির হননি তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। এরপর পিপলস লিজিং পুনর্গঠনের নির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি ২০১ জন আমানতকারী আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
