চট্টগ্রামে পশুর হাটে ক্রেতা নেই

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৮ এএম

ঘনিয়ে আসছে ঈদুল আজহা। সব ব্যস্ততা দূরে রেখে মানুষ ছুটবে কোরবানির পশুর হাটে এটাই প্রতি বছর এ সময়ের চিত্র। তবে করোনা মহামারীর কারণে এবার সেই চিত্র দেখা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন চট্টগ্রামের পশুর হাটের ইজারাদার ও ব্যাপারীরা। গত সোমবার থেকে নগরীতে স্থায়ী হাটগুলোর পাশাপাশি অস্থায়ী তিনটি হাটে পশু আনা শুরু করেছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তবে ক্রেতার দেখা মিলছে না এখনো। হাতেগোনা যে দুই-চারজন আসছেন, তারাও ঘুরে দেখছেন মাত্র। তবে ঈদ সামনে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ উঠে যেতে পারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন খবরে পশুর হাটের বেচাকেনা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নগরীতে তিনটি স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি আরও তিনটি অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি মিলেছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। গত সোমবার থেকে এসব হাট শুরু হয়েছে। অস্থায়ী বাজারগুলো হলো কর্ণফুলী গরুর বাজার (নূরনগর হাউজিং এস্টেট), সল্টগোলা রেলক্রসিংসংলগ্ন বাজার ও পতেঙ্গা ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ। আর স্থায়ী বাজারগুলো হচ্ছে সাগরিকা গরুর বাজার, বিবির হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।

বাজার শুরুর প্রথম দিনে একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ী হাটগুলোতে এখনো প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাজারগুলোতে গরু আসা শুরু হয়েছে। নূরনগর হাউজিং মাঠে কর্ণফুলী গরুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ট্রাকে ট্রাকে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসছেন। গরুগুলোকে বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য বাজারে ত্রিপল টানানো হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে সারি সারি খুঁটির খাইন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী আলম শেখ এ প্রতিবেদককে জানান, ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন তারা তিনজনের একটি দল। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও ‘লকডাউনের’ কারণে আগের মতো গরু আসার সম্ভাবনা কম বলে জানান তিনি।

তবে বাজারের ইজারাদার সাইফুল বেচাকেনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন গরু নিয়ে পথে রয়েছেন। সবে বাজার শুরু হলো। এখন তো আর ওরকম বেচাকেনা হবে না। চলমান বিধিনিষেধ যদি শিথিল হয় এবং ঈদের সময়ও ঘনিয়ে আসে তাহলে বেচাকেনা বাড়বে।’

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘আমরা প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে বাজার ইজারা নিলেও নগরীর অলিগলিতে যদি গরু বেচাকেনা চলে তাহলে ক্রেতারা বাজারে আসতে আগ্রহ হারাবে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই অনুমোদন ছাড়া যেখানে সেখানে ছোট ছোট পশুর হাট বসানো বন্ধ করতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে কোরবানির পশুর হাটের ওপর ১৭টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনো বাজারের ইজারাদার এসব শর্ত পালন নিশ্চিত না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করা, হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করা এবং মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান-পানির ব্যবস্থা রাখা।

তবে ওইসব শর্ত প্রতিপালন কতটা নিশ্চিত করা যাবে তা নিয়ে সন্দিহান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এমনিতেই গত কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকায় এবারের কোরবানির পশুর হাট নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখানে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কোরবানির পশুর হাটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা না গেলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলে রাব্বী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে কোরবানির পশুর হাটগুলো নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কারণ এমনিতে সরকারি নানা পদক্ষেপের পরও লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সেখানে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিটি বাজারে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত