প্রতিবন্ধী শিশুকে আগুনের ছেঁকা দিলেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৪:১৩ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাইন উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর (১০) হাত লাকড়ির আগুনে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মাইন উদ্দিন উপজেলার নগরহাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন মিলন নিজমাওনা গ্রামের মো. বুলবুলের ছেলে।

মিলনের মা মোছা. নাছিমা আক্তারের অভিযোগ, নিজমাওনা কালারবাড়ী মোড়ের পাশে ঘর নির্মাণ করছেন শিক্ষক মাইন উদ্দিন। নির্মাণকাজ দেখতে গিয়ে একপর্যায়ে মিলন বালুর ঢিবির ওপর উঠে খেলতে থাকে। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ধরে নিয়ে মোড়ে রফিজ উদ্দিনের চায়ের দোকানে গিয়ে চুলা থেকে জলন্ত লাকড়ি তুলে তার হাত ঝলসে দেন। ছেলের কান্না শুনে স্থানীয়রা এসে লবণ ও পানি ক্ষতস্থানে লাগিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

ওই দোকানে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলহাস উদ্দিন ও আবদুল করিম জানান, শিক্ষক মাইন উদ্দিন শিশুটিকে নিয়ে দোকানে আসেন। সবাই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি চুলা থেকে একটি লাকড়ি টেনে তার ডান হাতে ছেঁকা দেন। উপস্থিত সবাই প্রতিবাদ করলে শিক্ষক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

শিশুটির দাদা লাল মিয়া বলেন, ‘আমার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাতি না বুঝে বালুর ঢিবিতে উঠেছিল। কিন্তু জ্ঞানী মানুষ হয়ে শিক্ষক মাইন উদ্দিন কীভাবে এ কাজ করতে পারলেন?’ তিনি বলেন, ‘পরে বাবার সঙ্গে এসে শিক্ষক ঘটনার জন্য মাফ চেয়েছেন। কিন্তু নাতির হাতের দিকে তাকালে ক্ষমা করতে মন সায় দেয় না।’

এ বিষয়ে শিক্ষক মাইন উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল হাসান জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিনি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন্নাহারকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বলেন, ‘শিশুটির বাড়িতে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। পরে প্রধান শিক্ষক মাইন উদ্দিনের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের দায়িত্ব কোমলমতিদের ভালোবাসার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া। তদন্তে শিশুটির হাত ঝলসে দেওয়ার সঙ্গে ওই শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত