নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি তাদের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আমরা প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আজ (গতকাল) রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে দুজনের জামিন ও ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।’
এসপি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে কারখানা ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অসংগতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও আসামিরা সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ঘটনাটি তাদের অবহেলায় ঘটেছে, এটি তারা স্বীকার করেছেন।’
গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ২৯ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ৫২ শ্রমিক নিহত ও অর্ধশত আহত হন। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১০ জুলাই রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব, তারেক ইব্রাহিম, তাওসিফ ইব্রাহিম, তানজিদ ইব্রাহিম, সজীব গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শান আজাদ, কর্মকর্তা মামনুর রশিদ ও মো. সালাউদ্দিন।
তাদের মধ্যে চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জামিন পান আবুল হাসেমের দুই ছেলে তাওসিফ ইব্রাহিম ও তানজিদ ইব্রাহিম। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
