রূপগঞ্জে কারখানায় আগুন

ব্যবসায়ী সংগঠনের ভূমিকায় উষ্মা হাইকোর্টের

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০৪:১৯ এএম

শিল্পকারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক স্বার্থরক্ষায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নির্লিপ্ততা ও নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উচ্চ আদালত। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাসেম ফুডস লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানায় আগুনে হতাহতের ঘটনায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইসহ অপর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছে, তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই?

ঈদুল আজহার আগেই সেজান জুস কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের এ বেঞ্চে একটি আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন ও অনিক আর হক। এ সময় বিচারপতি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি পত্রপত্রিকা দেখি। এতগুলো লোক মারা গেল। অনেকে আহত হলো। কিন্তু আমি দেখিনি যে, এফবিসিসিআই কোনো বিবৃতি দিয়ে কোনো শোক জানিয়েছে বা তাদের কোনো প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তাদের কোনো ইতিবাচক ভূমিকা দেখি না। তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই?’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা শুধু সরকারের কাছ থেকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ, প্রণোদনা নেবে আর ব্যাংকের লোনগুলো মাফ করাবে তা নিয়ে আছে। এসব ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর রোল প্লে করা উচিত ছিল। কোথায় কী দুর্বলতা, এগুলো তাদের দেখা উচিত। গার্মেন্টেসের বিষয়ে বিদেশিরা তদারকি করছে বলে এখন ভালো চলছে। এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে যতক্ষণ চাপ না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ কাজ হবে না।’

শিল্পকারখানা তদাকরি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে হাইকোর্ট দুই আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, পত্রিকায় দেখেছি মালিক পক্ষ (সেজান জুস কর্র্তৃপক্ষ) শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। তাই এখন এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অপেক্ষা করুন। যদি বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো সমস্যা হয় তখন আইনজীবীদের এ বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনার পরামর্শ দেয় আদালত।

গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ৫২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে এবং আহতদের ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বেসরকারি তিনটি সংগঠনের পক্ষে গত ১০ জুলাই একটি রিট আবেদন করা হয়। আসক (আইন ও সালিশ কেন্দ্র), ব্লাস্ট (বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট), বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) এবং এসআরএসের (সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি) পক্ষে করা আবেদনটি পরদিন হাইকোর্টের এই বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। হাইকোর্ট ওইদিন বলে, এ ঘটনায় আমরাও উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে ঘটনার অনুসন্ধান হচ্ছে কিনা সেটি আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত