ডব্লিউএইচওর সতর্কতা

বিশ্বে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ০২:১৮ এএম

করোনার ডেল্টা ধরনে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বুধবার সংস্থাটির প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, বিশ্ব এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। খবর এনডিটিভির।

তেদরোস আধানোম বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা এখন তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। একটা সময় বিশ্বে সংক্রমণ ও মৃত্যু ধারাবাহিকভাবে কমছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বেই করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু নতুন করে বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিবর্তন বা রূপান্তর অব্যাহত রয়েছে। এ বিবর্তনের কারণেই অধিক সংক্রামক ধরনগুলো আসছে। এ প্রবণতা খুবই উদ্বেগজনক।’

বিশ্বে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি ও মৃত্যু কেন বাড়ছে, তার প্রধান কারণগুলো উঠে এসেছে ডব্লিউএইচওর প্রধানের বক্তব্যে, ‘করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখছে ডেল্টা ধরনের বিস্তার, সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রমাণিত ব্যবস্থাগুলোর সামঞ্জস্যহীন ব্যবহার।’ তিনি বলেন, ‘ডেল্টা ধরনটি বর্তমানে বিশ্বের ১১১টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনটি বিশ্বজুড়ে এখনো আধিপত্য বিস্তার না করে থাকলে, শিগগির তা ঘটবে।’

টিকা সরবরাহ-বণ্টনের বৈশ্বিক বৈষম্য বিষয়ে তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘এ বৈষম্য দুটি ধারার জন্ম দিয়েছে। একদিকে রয়েছে, যাদের অনেক টিকা রয়েছে, এমন দেশগুলো। তারা বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে। সবকিছু খুলে দিচ্ছে। বিপরীত দিকে রয়েছে সেসব দেশ, যাদের টিকা নেই। তাদের জীবন ভাইরাসের দয়ার ওপর নির্ভর করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ এখন পর্যন্ত কোনো টিকাই পায়নি। আর যেসব দেশ টিকা পেয়েছে, তাদের অধিকাংশ যথেষ্টসংখ্যক পায়নি।’ শুধু টিকা দিয়ে এ মহামারী থামানো যাবে না উল্লেখ করে করোনা নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশলগুলো অনুসরণে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

গত এক সপ্তাহে বিশ্বে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের এক সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে শনাক্ত প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। গত ৫ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বে ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৪৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ সময়ে মারা গেছে ৫৫ হাজার ৮৩০ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত