শুরুর আগেই জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ০৩:৩০ এএম

ঈদুল আজহার বাকি আর তিন দিন। শর্ত সাপেক্ষে আজ শনিবার থেকে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের হাটগুলোতে পশু বিক্রি শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে সারা দেশ থেকে গরু এনে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও বেচাকেনা চলছে বেশ। ছুটির দিন হওয়ায় ক্রেতা দর্শনার্থীদেরও উপস্থিতি ছিল বেশ।      

দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ এসেছে। আগামী ২১ জুলাই বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হবে। ঈদকে সামনে রেখে গত ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আট দিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে পশুরহাটগুলো চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এবার প্রচলিত হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও পশু বেচাবিক্রি চলছে। যা বেশ কিছুদিন আগ থেকেই শুরু হয়েছে। 

এদিকে দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোরবানির পশুরহাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে কোরবানির পশুর হাট বন্ধসহ আরও ১৪ দিন কঠোর লকডাউনের সুপারিশ করেছে তারা।

পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দু’দিন ধরেই হাটগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। তবে এ দু’দিন তেমন গরু বিক্রি হয়নি। গতকাল থেকে মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারি নিয়মে গতকাল পশু বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানীর গাবতলী স্থায়ী গবাদি পশুর হাট, বসিলার স্থায়ী হাট ও দনিয়ার অস্থায়ী হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গাবতলী পশুর হাটে দেখা গেছে, হাটের মূল অংশ আগেই গরু দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন হাটের চারপাশে বাড়ানো হয়েছে পরিধি। বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-মহিষ নিয়ে আসা ট্রাকগুলো জড়ো হচ্ছে বেড়িবাঁধে। সেখান থেকে গরু নামিয়ে রাখা হচ্ছে হাটের বর্ধিত অংশে। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গাবতলী হাটের ইনচার্জ সজীব সরকার জানান, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১২টি ট্রাক গবাদি পশু নিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা। হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের উদ্দেশ্যে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে। হাট মালিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য ৪০ জন করে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া রাইটার ও চেকার রাখা হয়েছে ৫০০ জনের বেশি।

রাজশাহী থেকে ছয়টি গরু নিয়ে এসেছেন জামাল। তিনি বলেন, ‘গতকাল ভোরে হাটে আসছি। আইসাই একটা গরু বিক্রি করছি। আজ আরও দুটি বিক্রি হইছে।’ করোনার কারণে এবার ক্রেতারা ঝামেলা এড়াতে খুব বেশি দরদাম বা ঘোরাঘুরি করছেন না বলে জানান জামাল।

নাটোর থেকে চারটি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খাবারের দাম বেশি, যাতায়াত খরচ বেশি। তাই দামও একটু বেশি। হাটে কাস্টমার থাকলে চিন্তা নাই।’ গাবতলী হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এছাড়া হাটের মধ্যে পুলিশ ও পুলিশের এলিট ফোর্সের টহল নিয়মিত চলছে। জাল টাকা ও প্রতারক চক্রের বিষয়টি মাথায় রেখে সাদা পোশাকে হাটে রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

গাবতলী স্থায়ী হাটের পাশাপাশি রাজধানীতে বসেছে কয়েকটি অস্থায়ী হাট। সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা দেওয়া এসব হাটে কয়েক দিন ধরেই আসছে কোরবানি উপযোগী পশু। হাট কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতে তারা সচেষ্ট রয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ক্রেতাদের সব রকম সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

এছাড়া দনিয়া ও রায়েরবাগ এলাকার অস্থায়ী হাট ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হয়েছে। সকালে বেশকিছু গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বসা অস্থায়ী হাটটিতে হাজার হাজার গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত