কোরবানির ঈদের আর বাকি দু’দিন। এরই মাঝে চলমান ‘লকডাউন’ শিথিলের পর দোকান খোলার গতকাল শনিবার ছিল তৃতীয় দিন। প্রথম দুই দিন ব্যবসায়ীরা ধোয়ামোছাতে সময় পার করেছেন। কিন্তু গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে কিছুটা স্বাভাবিক বেচাকেনা হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোরবানির ঈদে তেমনটা বেচাকেনা থাকে না। তারপর আবার এ বছরও করোনাকালীন ঈদ চলছে। দোকান খোলার দুই দিন বেচাকেনা করতে না পারলেও আজ (গতকাল) কিছুটা স্বাভাবিক বেচাকেনা হয়েছে। সরেজমিন গতকাল নিউ মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, মৌচাক, চকবাজার, গুলিস্তান, সদরঘাট, ইসলামপুরসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের মতোই বেচাকেনা চলছে। তবে অন্যান্য সময়ে ফুটপাতে ঈদের আগে যে ভিড় লেগে থাকত এবার তা দেখা যায়নি। তাছাড়া অনেক মার্কেটের কিছু দোকান বন্ধও দেখা গেছে।
ইস্টার্ন প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের এক বিক্রেতা মো. আলামিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার ঈদেও বড় শপিং মলে তেমনটা বেচাকেনা নেই। লকডাউন কয়দিনের জন্য শিথিল হলেও আবার লকডাউন দিয়ে দেবে। সে জন্যই মানুষ শপিং করছে না।’
নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মো. রাকিব বলেন, ‘ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার আগে পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে আসলাম। বড় শপিং মলে কিনতে গেলে তো অনেক দাম রাখে। সেজন্য আসলাম এই নিউ মার্কেটে কেনাকাটার জন্য।’
এদিকে পুরান ঢাকার পাইকারি মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মো. ফাহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসলামপুর পাইকারি মার্কেট হওয়ায় সারা দেশের পাইকররা এখন আর ঢাকায় আসবে না, যা মাল নেওয়ার তারা আগেই কুরিয়ারের মাধ্যমে নিয়ে গেছে।
ফুটপাতেও নেই ভিড় : ঈদের সময় রাজধানীর ফুটপাতে অন্যান্যবার যেমন ভিড় দেখা যেত, এবার তা দেখা যায়নি। ফুটপাতের হকাররা বলছেন, করোনার জন্য সবাই আগের মতো ফুটপাতে কেনাকাটা করতে আসছে না। যার জন্য ঈদে ফুটপাতের যে কেনাকাটার ভিড় দেখা যেত তা নেই।
গুলিস্তানে ফুটপাতের দোকানি মো. সালাম বলেন, ‘করোনায় ফুটপাতের ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। সারা দিন ক্রেতাদের জন্য বসে থাকলেও ঈদের যে বেচাকেনা সে রকম বেচাকেনা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই দিনের থেকে আজ (গতকাল) স্বাভাবিক বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু ঈদের যে বেচাকেনা সে রকম বেচাকেনা এখনো হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি যেন কঠোরভাবে পালন করা হয় সে বিষয়ে সমিতি থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।’
