ভাসানচরে রোহিঙ্গারা পেল কোরবানির ২৩৫ গরু

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৮ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য ২৩৫টি গরু কোরবানির ব্যবস্থা করেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা গরুগুলো ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্লাস্টারে বিতরণ করা হয়েছে। ১০টি পয়েন্টে গরুগুলো কোরবানির পর প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারে মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের ক্লাস্টারে গরু বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।

জেলা প্রশাসক বলেন, সুষ্ঠুভাবেকোরবানির পশু জবাই ও রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মংচিংনু মারমাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ডেটাবেইস ও প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা কোরবানির পর প্রতি পরিবারে মাংস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

 সাড়ে চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য ২২০টি গরুর চাহিদা থাকলেও তিনটি এনজিও ২৩৫টি গরু সরবরাহ করেছে। রোহিঙ্গা পরিবারগুলো ৩৮টি ক্লাস্টারে অবস্থান করছে। কোরবানি শেষে মাংস বণ্টনের জন্য ১০টি পয়েন্ট ঠিক করা হয়েছে। প্রতি পরিবার কমপক্ষে দুই কেজি করে মাংস পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক রাসেদ সাত্তার বলেন, কোরবানির ঈদের আনন্দে রোহিঙ্গারা যেন অংশীদার হতে পারে, এ জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাসানচরে নৌবাহিনীর ক্যাম্প ইনচার্জ শংকর বিশ^াস বলেন, ঈদের দিন পশু কোরবানির আগে ভাসানচরের ওয়্যারহাউজে গত ঈদুল ফিতরের মতো দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের হিউম্যানিটেরিয়ান ক্রাইসিস রেসপন্স প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানাজার হোসেন শহিদ বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩৫টি গরু বিতরণ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, কোরবানির গরু পেয়ে রোহিঙ্গারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এনজিওগুলোকে ধন্যবাদ জানায়।

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ ও ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৪ এবং চলতি বছরের ২৯-৩০ জানুয়ারি ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৬০০ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত