ঈদের ছুটির আগেই প্রায় শতভাগ তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। তাদের দাবি, চলমান শতভাগ কারখানা মালিক-শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, এখনো অনেকেই বেতন-বোনাস কোনোটিই পাননি, কেউ বেতন পেয়েছেন কিন্তু বোনাস হয়নি, আবার কারও বোনাস হলেও বেতন হয়নি।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে ১ হাজার ৯১২টি চালু কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯০৭টি প্রতিষ্ঠান জুন মাসের বেতন এবং ঈদের বোনাস দিয়েছে। চালু থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেতন পরিশোধের শতকরা হার ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম জানান, তারা আশা করছেন ঈদের আগেই বাকি পাঁচটি কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) তাদের শতভাগ কারখানা জুন মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে বলে জানিয়ে গতকাল সংগঠনটির সহসভাপতি ফজলে এহসান শামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা অভিযোগ পাইনি, তাই আশা করা যায় সবাই বেতন ও বোনাস পেয়েছেন।’
শতভাগ বেতন-বোনাস পরিশোধের খবরে খুশি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম শ্রমিকদের বেতনভাতার বিষয়টি তদারকি করছে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।’
তবে দ্বিমত পোষণ করে শ্রমিক নেতারা বলছেন, অন্য ঈদের চেয়ে এবার বেশিসংখ্যক কারখানায় বেতন-বোনাস হলেও তা শতভাগ নয়। শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০ ভাগ কারখানা বোনাস দেয়নি। শুধু বেতন দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।’
শ্রমিক নেতা প্রকাশ দত্তের ভাষ্য, বিজিএমইএর আওতার বাইরে অনেক কারখানায় এখনো বেতন এবং বোনাস কোনোটিই পরিশোধ করেনি।
