করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচলে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে উচ্চ ও বিচারিক আদালতে। আজ ২৫ জুলাই রবিবার থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সময় এবং ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিনটি ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে হাইকোর্টের পৃথক তিনটি একক বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল শনিবার প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা সংবলিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ওই সময় থেকে প্রতিটি জেলার জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ানি ও ফৌজদারি এবং মহানগর দায়রা জজ ফৌজদারি জরুরি দরখাস্তসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী জেলা/মহানগরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে বলা হয়, আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে উক্ত সময়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা যাবে। এ ছাড়া নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্ট, ১৮৮১ সহ যেসব আইনে মামলা অথবা আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত আছে, সেসব আইনের অধীনে মামলা/আপিল শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাত দিনের মধ্যে তামাদির (যেকোনো আবেদনের সময়সীমা) মেয়াদ অক্ষুন্ন গণ্যে দায়ের করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে বিচারিক আদালতে কর্মরত সব বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থল ত্যাগ না করা এবং এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের আদালত প্রাঙ্গণে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়।
