দেশে করোনাভাইরাসে আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ ছাড়া শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ২৯১ জন। গত চার দিন পর এটিই সর্বোচ্চ শনাক্ত। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৭ হাজার ৫৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৯৫ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৬ হাজার ৭৮০ জন। রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৫ জনে। আর আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ২৭৪ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০ হাজার ৫৮৪ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ জন।
গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৪ হাজার ৭৫৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মোট শনাক্তের ৪২ শতাংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্ত ১ হাজার ৬৬৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৬ জন, খুলনা বিভাগে ১ হাজার ২৭৮ জন, রংপুর বিভাগে ৯২০ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৬৯ জন ও সিলেট বিভাগে ৪৪০ জন শনাক্ত হয়েছে।
জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা জেলায় ৩ হাজার ৪৫৫ জন। এ ছাড়া গাজীপুরে ১৯৮ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ১৮৪ জন, চট্টগ্রামে ৮০১ জন, কুমিল্লায় ২৬৩ জন, রাজশাহীতে ২৬৮ জন, বগুড়ায় ২৪২ জন, রংপুরে ২০০ জন, ঝিনাইদহে ২৭৯ জন, খুলনায় ১৯৭ জন, কুষ্টিয়ায় ২৬০ জন, বরিশালে ২৭৩ জন ও সিলেটে ২৬৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৮ জন মৃত ব্যক্তির মধ্যে ৬৯ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। খুলনা বিভাগে ৫০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ জন ও সিলেট বিভাগে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২৫ জন আর নারী ১০৩ জন। তাদের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২ জন আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৭৪ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৪০ জন আর বাড়িতে ১৪ জন মারা গেছেন।
