চট্টগ্রামে লকডাউন পরিস্থিতি

সড়কে ‘ঢিলেঢালা ভাব’ অলিগলিতে জটলা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০২:২৬ এএম

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দেশজুড়ে ‘কঠোর বিধিনিষেধের’ তৃতীয় দিনে গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম নগরীতে ‘ঢিলেঢালা ভাব’ লক্ষ করা গেছে। সড়কগুলো ছিল রিকশার দখলে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত, পোশাক শিল্প কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ঈদ পরবর্তী সড়কে লোকজন ও যান চলাচল কম থাকলেও নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে লোকজনের জটলা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধের তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২১৫টি মামলার পাশাপাশি প্রায় ৬৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। 

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর বহদ্দারহাট, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজার, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, কাজির দেউরি, এনায়েতবাজার, চেরাগী মোড়, আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লোকজনের আনাগোনা ‘লকডাইনের’ প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিনের তুলনায় একটু বেশি। গণপরিবহনশূন্য এসব সড়কে যাত্রী নিয়ে রিকশা চলাচলের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার এবং সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে টহল ও নজরদারি করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের। এদিকে, গতকাল সকাল থেকেই সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় নগরীর নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে, নগরীর চকবাজারের অলিখাঁ মসজিদ মোড় এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে বেশ কিছু রিকশা ও মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট কারকে তল্লাশি করতে দেখা যায়। এ সময় রিকশায় থাকা এক যাত্রীকে কর্তব্যরত পুলিশ কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে বলেন আত্মীয় অসুস্থ তাই মেডিকেলে যাচ্ছি। তখন ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে যথাযথ গন্তব্য বলতে না পারায় আরেক যাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, নগরীর বিভিন্ন মূল সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকলেও বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ছিল ভিন্ন। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও বিভিন্ন অলিগলিতে জটলা বেঁধে লোকজনকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তবে সেখানে উঠতি বয়সীদের আধিক্য বেশি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানকালে নগরীর চকবাজার, ডবলমুরিং, বন্দর, পাহাড়তলী, আকবরশাহ এলাকা, ইপিজেড, পতেঙ্গা, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ, খুলশী, সদরঘাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘোরাফেরা করা, দোকান, রেস্টুরেন্ট ও শপিংমল খোলা রাখা ও ড্রাইভিং লাইন্সেস ছাড়া রাস্তায় বের হওয়ায় ২১৫টি মামলায় ৬৩ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদ-পরবর্তী সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই শনাক্তের হার বাড়ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২০৭৮টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৮০১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায় এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকায় ৪৬৯ জন এবং উপজেলায় ৩৩২ জন। বর্তমানে সংক্রমণের হার ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তাই সাবধান, সচেতনতা বাড়াতেই হবে। নয়তো হাসপাতালেও জায়গা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত