ঈদ ঘিরে মহা-সংক্রমণের চার বিপদের মুখে দেশ: ড. বে-নজীর আহমেদ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ০৫:৫৪ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ড. বে-নজীর আহমেদ। তিনি দেশজুড়ে কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য সুবিদিত। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ইউনিসেফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়, সহায়তা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে কাজ করেছেন তিনি। এখন দেশজুড়ে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ বিস্তার, অবনতিশীল পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহাকে ঘিরে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল আর আসন্ন কঠোর লকডাউন এবং গণটিকাকরণসহ সামনের দিনগুলোতে মহামারী মোকাবিলার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্যবিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ এখন করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মারাত্মক সংক্রমণের শিকার। ইতিমধ্যেই দেশের ৬৪ জেলার সবগুলোতেই বিস্তার লাভ করেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ শনাক্তের রেকর্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। করোনা মহামারীর এই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে আপনার কাছে?   

বে-নজীর আহমেদ : আমার মতে করোনা মহামারীতে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহতম সময় পার করছে বাংলাদেশ। দুটো কারণে। একটা হলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। কারণ এই ভ্যারিয়েন্ট অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ছোঁয়াচে। অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে এটি। ফলে কোনো দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে এটাই ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। দ্বিতীয় কারণটি হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জারি করা লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ পরিপালিত না হওয়া বা অর্থবহ না হওয়া। দুটোই বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। এখনই এই পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে না পারলে বা সংক্রমণ কমিয়ে আনতে না পারলে মারাত্মক বিপর্যয় তৈরি হবে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠবে।  

দেশ রূপান্তর : রাজধানী ঢাকা, বিভিন্ন বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে এখন সংক্রমণ ও মৃত্যুর উদ্বেগজনক উচ্চহার সরকারি তথ্যেই জানা যাচ্ছে তা থেকে কেমন চিত্র আপনি দেখতে পাচ্ছেন?

বে-নজীর আহমেদ : রাজধানী ঢাকা এবং সারা দেশে জেলাগুলোর সংক্রমণ পরিস্থিতি আসলে খুবই অবনতিশীল। ঢাকায় ঘরে ঘরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনও দেখা যাচ্ছে যে একই পরিবারের শতভাগ আক্রান্ত। একই ভবনের প্রায় সব ফ্ল্যাটেই পরিবারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। এত বেশি সংক্রমণ কিন্তু আগে দেখা যায়নি। একই কথা বলা যায় জেলা বা গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রেও। আমার নিজের জেলা গাইবান্ধার খবর জানি। সেখানে গত এক বছরেও তেমন সংক্রমণ ছিল না। কিন্তু এখন গ্রামাঞ্চলেও একই পরিবারের নয় জনের সবার করোনার খবর পাচ্ছি। আবার পুরনো যোগাযোগের কারণে কক্সবাজারের খবরও পাচ্ছি। সেখানে আগে বিশ-পঁচিশজনের জায়গায় এখন নিয়মিতই দুইশ-আড়াইশ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ৬৪ জেলার এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এখন কম বা বেশি সংক্রমণ নেই।

তবে, একটা কথা এখানে বলতেই হচ্ছে। সরকার সংক্রমণ ও মৃত্যুর যে তথ্য দিচ্ছে তা কোনোভাবেই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে না। সরকারি তথ্য খন্ডিত। পুরোটা সেখানে আসছে না। সরকার শুধু এইটুকু তথ্যই দিতে পারে যে, তারা যে পরিমাণ পরীক্ষা করেছে তার মধ্যে কতজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর এই সংক্রামিতদের কতজন চিকিৎসা নিচ্ছে, কতজন মারা যাচ্ছে ইত্যাদি। কিন্তু যারা করোনা পরীক্ষাই করছে না কিংবা যারা করোনা পজিটিভ না জেনেই উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে তাদের হিসাব তো সরকারি তথ্যে থাকছে না। ফলে সরকার আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হার জানাচ্ছে প্রকৃত চিত্রে সেটা উভয় ক্ষেত্রে আরও অন্তত পঞ্চাশভাগ বেশি হতে পারে বলে আমি মনে করি। 

দেশ রূপান্তর : এবার লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধের প্রসঙ্গে আসি। আপনি জানেন টানা দুই সপ্তাহ কঠোর বিধিনিষেধের পর ঈদকে ঘিরে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। যদিও করোনা মোকাবিলা জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এর বিরোধিতা করেছিল। অন্যদিকে ঈদের পর আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত একটি কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আসন্ন দুই সপ্তাহের লকডাউনে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব ধরনের শিল্পকারখানাও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারের এই লকডাউন বা বিধিনিষেধের ব্যবস্থাপনা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

বে-নজীর আহমেদ : প্রথম কথা হলো, কঠোর বিধিনিষেধ বলি বা লকডাউনই বলি, সরকারের এই ব্যবস্থাপনায় কথা ও কাজে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সর্বশেষ দুই সপ্তাহেও যখন ঘোষণা করা হলো যে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বেরুতে পারবে না, বেরুলে জেল/জরিমানা হতে পারে; সেই অবস্থায় কল-কারখানা কীভাবে খোলা থাকে। কল-কারখানায় পঞ্চাশ/ষাট থেকে সত্তর/আশি লাখ লোক যাতায়াত করবে। এটা কী করে হয়? এটা তো স্ববিরোধী। আবার ধর্ম মন্ত্রণালয় এই পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষণা দিল যে, মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা যাবে। তার অর্থ হলো ধর্ম মন্ত্রণালয় এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিরোধিতা করল। আবার যখন এই প্রজ্ঞাপনেই থাকে যে, বাজার-কাঁচাবাজার খোলা থাকবে, ব্যাংক খোলা থাকবে তখন এই প্রজ্ঞাপন আরও স্ববিরোধী হয়ে ওঠে। এছাড়া আরেকটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, সরকারের এই বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন প্রচ্ছন্নভাবে শুধুই শহরাঞ্চলের জন্য। গ্রামাঞ্চলের কথা এতে নেই। বিধিনিষেধ কার্যকরে পুলিশ বলেন আর্মি বলেন সবাই তো শহরে। গ্রামে বড়জোর উপজেলা সদরে। কিন্তু আমাদের জনসংখ্যার প্রায় সত্তর ভাগই তো এখনো গ্রামে বসবাস করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রামে করোনা নেই এমনটা বলারও আর সুযোগ নেই। তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়াল, এই লকডাউন দেশের সত্তর ভাগ মানুষের জন্য ছিল না।

আরেকটা বিষয় এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিগত লকডাউনে বলা হলো কলকারখানা খোলা থাকবে। এবার ঘোষণা হলো কোনো কলকারখানাই খোলা থাকবে না। এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যে, কোন বিবেচনায় এক সপ্তাহ আগে-পরের দুই লকডাউনে দুই বিধান জারি করা হলো। এই স্ববিরোধিতার উত্তর খোঁজা জরুরি। এসব দেখে মনে হচ্ছে সরকারের ভেতরে কি এসব নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব চলছে? নাকি সরকার বারবার কোনো পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে? তবে, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত আগামী দুই সপ্তাহের লকডাউনে সব কলকারখানা বন্ধ রাখতে সক্ষম হয় আমরা অবশ্যই তাকে সাধুবাদ জানাব।

আবার শুরুর কথায় ফিরে আসি। বলছিলাম যে আমরা মহামারীর এখন পর্যন্ত সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আছি। কোরবানির ঈদ ঘিরে লকডাউন শিথিল করে দেওয়া হলো। এখন ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলো থেকে মানুষ গ্রামে যাবে, দেশের এক অংশ থেকে আরেক অংশে যাবে। আবার এই মানুষরা একইভাবে যার যার কর্মস্থলে ফিরবে। এখন ধরুন গত চৌদ্দ দিনে যদি এক থেকে দেড় লাখ লোক নতুন আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং তাদের একটা অংশ যদি দেশব্যাপী এমন মুভমেন্ট করে তার ফল কী হবে? এরা যদি এভাবে নতুন নতুন জায়গায় সংক্রমণ নিয়ে যায় তাহলে অবশ্যই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।

দেশ রূপান্তর : ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশব্যাপী এমন মাস-মুভমেন্টের ফলাফল কী হতে পারে? সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদ হিসেবে আপনি কী মনে করছেন?

বে-নজীর আহমেদ : আমরা এই সময়টাকে চিহ্নিত করছি চারটি ‘সুপার-স্প্রেডিং ইভেন্ট’ হিসেবে। এই চারটি সুপার-স্প্রেডিং বা মহা-সংক্রমণের ঘটনা হলো ১. ঈদ ঘিরে দেশব্যাপী মানুষের যাতায়াত। ২. ঈদের কেনাকাটা, শপিংমল, বাজারঘাট ইত্যাদি। ৩. কোরবানির পশুর হাটে সশরীরে পশু কেনাবেচা, জবাই ইত্যাদি। ৪. ঈদের জামাত এবং ঈদে মানুষজনের বাড়ি বাড়ি যাতায়াতের মেলামেশা। এখন মহা-সংক্রমণের এই চারটি ঘটনা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে আমাদের আশঙ্কা ঈদের পর দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণের একটা মহা-বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফলে এখন মহা-সংক্রমণের এই চার বিপদের মুখে রয়েছে দেশ। এটা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবারই চিন্তিত থাকার কথা। এখনই দেশের সরকারি- বেসরকারি সব হাসপাতাল মিলিয়েও করোনার চিকিৎসায় আমরা পর্যাপ্ত সক্ষমতা দেখাতে পারিনি। তাহলে এমন মহা-সংক্রমণ ঘটলে স্বাস্থ্য বিভাগ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে? 

দেশ রূপান্তর : করোনার টিকাদান নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল বিগত দিনগুলোতে সেটা কেটে যেতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে কয়েকটা দেশের কয়েকটা কোম্পানির টিকা চলে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও টিকাপ্রাপ্তির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের আশিভাগ মানুষকে বিনামূল্যে করোনার টিকাদানের লক্ষ্য পূরণে কতখানি চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছেন?  

বে-নজীর আহমেদ : এটা ঠিক, টিকা নিয়ে শুরুতেই আমরা যে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছিলাম সেটা কেটে গেছে। আরেকটা বিষয় বলতে চাই। বাস্তব বিবেচনার কারণেই জনস্বাস্থ্যবিদদের দিক থেকে করোনার টিকা বিনামূল্যে প্রদানের জোরালো দাবি ছিল। আরেকটা বিষয় হলো জনস্বাস্থ্যের এমন বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছাকে আমরা খুবই গুরুত্ব দিই। কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃঢ়তা ছাড়া গণটিকাকরণের মতো কর্মসূচি সফল করা কঠিন। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই দৃঢ়তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী যে বিনামূল্যে আশিভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একে সাধুবাদ জানাই। আর বাংলাদেশের যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে আশি ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া খুবই সম্ভব বলেই আমি মনে করি।

দেশ রূপান্তর : এখানে আরেকটি বিষয় জানতে চাই। করোনার টিকা নেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩৫ করা হলো। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তা আরও শিথিল করা হলো। এদিকে, অতি সম্প্রতি দেশে শিশুদের মধ্যেও করোনা আক্রান্তের হার বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে টিকাদানের বয়সসীমা কি ১৮ বছরের নিচে নামিয়ে আনা হবে বা শিশুদেরও টিকাকরণের আওতায় আনা হতে পারে?

বে-নজীর আহমেদ : বিষয়টা সে-রকমই। আমি শিশুদের সুরক্ষার জন্য করোনার টিকার কথা বলতে চাই। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই বলছেন, যখন জনসংখ্যার আশিভাগ বা বেশিরভাগ অংশ টিকাকরণের আওতায় আসবে তখন করোনা নতুন শিকার খুঁজতে থাকবে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য করোনার টিকা বানানোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশগুলোতে। ইতিমধ্যেই শিশুদের টিকা নিয়ে আগ্রহ উদ্দীপক ফল পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

দেশ রূপান্তর : পশ্চিমা কিছু দেশে ‘মিশ্র টিকা’ বা প্রথম ডোজে এক কোম্পানির টিকা এবং দ্বিতীয় ডোজে আরেক কোম্পানির টিকা দেওয়া নিয়ে নিরীক্ষা হচ্ছে। এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা আসলে কী?

বে-নজীর আহমেদ : এ বিষয়ে প্রথমেই ‘নাইট্যাগ’ বা ‘ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেশনিক্যাল অ্যাডভাইজারি গ্রুপ’-এর কথা বলতে চাই। আমি এই গ্রুপের একজন সদস্য। ‘নাইট্যাগ’-এর পর্যালোচনায় আমরা দেখেছি যে, মিশ্র টিকা দেওয়া যাবে এমনটা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো অথরিটি বলেনি। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ‘এফডিএ’, কিংবা যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এখনো মিশ্র টিকার অনুমোদন দেয়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনই কথা বলার সময় হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত