অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের পদত্যাগ চান অভিভাবকরা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ০৩:২১ এএম

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার (মুকুল) এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবকরা অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এছাড়া তাকে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছেন তারা।

কয়েকজন অভিভাবক দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেছেন, কামরুন নাহারকে কেউ কিছু বললেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তার যোগাযোগ আছে বলে হুমকি দেন।

গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরে ‘আমি কিন্তু বালিশের নিচে পিস্তল রেখে ঘুমাতাম’ শিরোনামে কামরুন নাহার ও সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়, যে ফোনালাপে অধ্যক্ষকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায়। ওই অডিও টেপে তিনি বারবার নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ও অস্ত্রধারী উল্লেখ করে কয়েকজনকে দেশছাড়া করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা।

মীর সাহাবুদ্দিন টিপু ওই ফোনালাপ নিজের দাবি করলেও অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এটিকে সুপার এডিটেড বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন। তবে সাহাবুদ্দিন বলছেন, পুরো ফোনালাপ তার কাছে সংরক্ষিত আছে। সরকার যদি তদন্ত করতে চায় তাহলে তিনি সেটি হস্তান্তর করবেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

এদিকে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভিকারুননিসার সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। দেশের একটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের এমন কুৎসিত ভাষা ব্যবহারে তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের ‘অস্ত্রধারী’ সাবেক কর্মী দাবি করে হুমকিধমকি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মজিদ সুজন অভিযোগ করে বলেন, ‘ভিকারুননিসায় যোগদানের সাত মাস পার হলেও অধ্যক্ষ অফিসে বসেননি, অভিভাবকরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। যেসব শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারা গেছেন, তাদের বিনা বেতনে পড়াশোনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি অধ্যক্ষ। সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার স্কুলের জন্য সময় দিতে পারেন না বলে অধ্যক্ষ বেপরোয়া হয়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।’

হাসিনা মুক্তা নামে অন্য এক অভিভাবক বলেন, ‘ভাবতেই অবাক লাগছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের মুখের ভাষা এত বাজে কী করে সম্ভব! আমাদের সন্তানদের স্কুল থেকে সুশিক্ষা পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

কামরুন্নাহার শেলি নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসমুক্ত জীবন গড়ার প্রেরণা পায়। যেখানে শিক্ষকই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, পিস্তল-রিভলবারের ভয় দেখায় সেখানে ছাত্রছাত্রীরা কী শিখবে? প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে উনি আর কী কী করেন তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেছেন, ‘ভর্তিবাণিজ্য নিয়ে পেরে না উঠে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ ষড়যন্ত্র করছেন জিবি সদস্য ও অভিভাবক ফোরামের লোকজন। আমি এ প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে চাই। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে এটি তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে চাই। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত