কোনো কম্পিউটার না থাকায় ব্ল্যাকবোর্ডেই চকের সাহায্যে এঁকে শিক্ষার্থীদের নানা বিষয় বোঝাতেন ঘানার স্কুলশিক্ষক রিচার্ড আপিয়া আকুতো। তার প্রচেষ্টা নজরে আসে মাইক্রোসফটের। রিচার্ডের স্কুলে ল্যাব তৈরি করতে সহায়তা করা ছাড়াও তার ট্রেনিং করার সুযোগ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। রিচার্ডের ব্ল্যাকবোর্ড কম্পিউটার ও মাইক্রোসফটে যাত্রা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
ব্ল্যাকবোর্ডে কম্পিউটার
শিশুদের কম্পিউটারের ব্যবহার বোঝানো এমনিতেই সহজ কোনো বিষয় নয়। আর সে কাজ যদি করতে হয় ব্ল্যাকবোর্ডে তবে তো আরও কঠিন। শিশুদের হাতে সরাসরি কম্পিউটার দেওয়া যাচ্ছে না বলে বর্তমান সময়ের অন্যতম জরুরি এই প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের ব্ল্যাকবোর্ডেই বুঝিয়েছেন ঘানার একজন শিক্ষক। এই শিক্ষকের নাম রিচার্ড আপিয়া আকুতো (৩৬)। শুধু মনিটর বা পিসি বুঝিয়েই তিনি তার দায়িত্ব শেষ করেননি। শিক্ষক হিসেবে পালন করেছেন আরও বড় দায়িত্ব। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লিখতে গেলে যতগুলো অপশন আসে, তার সবগুলো তিনি চক দিয়ে হাতে এঁকে শিশুদের বুঝিয়েছেন। এর মধ্যে টাইটেলবার তো আছেই, বাদ যায়নি রঙিন স্ক্রলবারও। প্রিন্টার, সেভ বাটন ও স্পেলচেকের মতো প্রতিটি বিষয়ের খুঁটিনাটি তিনি আঁকতেন ব্ল্যাকবোর্ডে। ২০১৮ সালে তার এই কাজের ছবি ফেইসবুকে প্রচার হলে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রিচার্ডের কাজে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসে মাইক্রোসফট।
ঘানার ছোট শহর সেকিয়াডোমেসের বেতানিজ মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলি জুনিয়র হাই স্কুলের শিক্ষক রিচার্ড। কুমাসি শহর থেকে এই শহরে যেতে আড়াই ঘণ্টা লাগে। যোগাযোগব্যবস্থাও খুব সহজ নয়। এই স্কুলের ১৪/১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল এক্সামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আইসিটি সেই পরীক্ষার একটি বিষয়। স্কুলে হাতে-কলমে শেখার কোনো ব্যবস্থা নেই বলে শিক্ষার্থীদের বোর্ডেই এঁকে আইসিটি পড়াতেন রিচার্ড। ব্ল্যাকবোর্ডে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড উইনডো বোঝানোর একটি ছবি নিজ থেকেই তিনি পোস্ট করেছিলেন ফেইসবুকে। রিচার্ড বলেন, ‘আমি আমার শিক্ষার্থীদের কী পড়াচ্ছি, সেটা শুধু বইয়ের পাতায় রাখতে চাইনি। আমি আমার শিক্ষার্থীদের ভালোবাসি। সেজন্য সব সময় চাই, আমি ওদের যা পড়াচ্ছি সেটা যেন বুঝতে পারে, ওদের ভালো লাগে।’
রিচার্ডের পোস্টটিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার রিঅ্যাকশন আসে। কমেন্টে সবাই রিচার্ডের কাজের বেশ প্রশংসা করেন। শেয়ারের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। রিচার্ড শুধু চাচ্ছিলেন এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি যেভাবে পরিশ্রম করছেন এবং একজন শিক্ষকের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন সেটা মানুষকে জানাতে। তার পরিশ্রমও বৃথা যায়নি। মাইক্রোসফটের নজরে এসেছিলেন রিচার্ড।
মাইক্রোসফট
ফেইসবুকে শেখানোর পদ্ধতিটি পোস্ট করার পর সেটি নজরে আসে উদ্যোক্তা রেবেকা ইননচং-এর। মাইক্রোসফট আফ্রিকার সঙ্গেও কাজ করেছেন রেবেকা। রিচার্ডের ছবিটি টুইটারে শেয়ার করে রেবেকা লিখেছিলেন, ‘হ্যালো মাইক্রোসফট আফ্রিকা, তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড শেখাচ্ছেন। অবশ্যই তোমাদের পক্ষ থেকে তাকে যথাযথ বন্দোবস্ত করে দেওয়া উচিত।’ সঙ্গে আরও লেখেন, ‘এই ছবিটি ইন্টারনেট জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কি আমাকে বলতে পারেন এটি কোন দেশের? এই শিক্ষক আমার হিরো। আমি তাকে খুঁজে বের করতে চাই।’ তখনই মাইক্রোসফট যোগাযোগ করে রিচার্ডের সঙ্গে। মাইক্রোসফট আফ্রিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের জন্য শিক্ষকদের সমর্থন করি। আমাদের সহযোগীর সাহায্যে রিচার্ডকে প্রযুক্তির সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এমনকি মাইক্রোসফটের প্রোগ্রাম ও বিনামূল্যে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোর্সও তিনি করতে পারবেন।’
মাইক্রোসফটের ওয়ার্ল্ডওয়াইড এডুকেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্থনি সালসিটো রিচার্ডের প্রশংসা করে লিখেছিলেন, ‘তোমার কাজ সত্যিই বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করার মতো। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে তুমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছো, সেটিকে আশ্চর্যজনক উদ্ভাবন বলতেই হবে। মাইক্রোসফটে আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি শিক্ষক একেকজন নায়ক। শিক্ষার্থীদের জীবনভর শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য তারা যত বাধা অতিক্রম করেন, যত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন সেসবের জন্য তাদের কাছে মাইক্রোসফট কৃতজ্ঞ।’
মাইক্রোসফটের নজরে আসার পর রিচার্ডের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। পোস্টটি যখন ভাইরাল হয়, মাইক্রোসফট তখন কম্পিউটার ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর বেশ জোর দিয়ে নানা প্রশিক্ষণ ও বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। মাইক্রোসফট তখন সিঙ্গাপুরে বার্ষিক এডুকেটরস এক্সচেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেখানে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিল। এমন সময়ে সামনে আসে রিচার্ডের ঘটনা। তাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয় এই কনফারেন্সে। এটাই ছিল রিচার্ডের প্রথম ঘানার বাইরে যাওয়া। রিচার্ড বলেন, ‘আমি কখনো ঘানার বাইরে যাইনি। আমার মতো সাধারণ একজন শিক্ষকের বিশ্বের নানা জায়গা থেকে আসা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়া অনেক বড় একটি বিষয়। তারা কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছে এটা জানতে পারাও আমার জন্য আনন্দের। আমি সবার কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির সাহায্যে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই শিক্ষা আমি কীভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে তুলে ধরব সেটা আমাকে আগে ভেবে নিতে হয়। অবশ্যই এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তাই এত বড় একটি কনফারেন্সে অংশ নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে আমি নতুন অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে পারব বলে আশা করছি।’
কনফারেন্সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষাবিষয়ক নেতারা এসেছিলেন। সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন। রিচার্ড নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, তাদের স্কুলে মাত্র একটি কম্পিউটার আছে। বহুদিন ধরে নষ্ট থাকায় সেটি দিয়ে কাজ করা যায় না। তার নিজের কাছে যে ল্যাপটপ ছিল সেটি ভেঙে গিয়েছে। হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের শেখানোর মতো কোনো উপায় তার কাছে ছিল না। কিন্তু তিনি চাচ্ছিলেন শিশুরাও যেন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারে। রিচার্ড বলেন, ‘ঘানায় আইসিটি পড়ানোর বিষয়টি অন্যদের চোখে বেশ হাস্যকর। অথচ আমাদের কাছে বাস্তবতা এমনই। চাইলেই সব পাওয়া যায় না। তবু আমি আমার শিক্ষার্থীদের শেখাতে চাচ্ছিলাম কীভাবে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড দিয়ে কাজ করা হয়। কিন্তু আমার কাছে সবাইকে একসঙ্গে শেখানোর মতো উপায় ছিল না। স্কুলে পড়ে ছিল নষ্ট ও ভাঙা কম্পিউটার। আমার ল্যাপটপটিও ভাঙা। কিন্তু শেখাতে যেহেতু হবে, আমি আর ওদের পিছিয়ে থাকতে দিতে চাইনি। তখন সিদ্ধান্ত নিই চক দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে ওয়ার্ডের স্ক্রিন এঁকে ওদের বোঝাতে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। প্রথমবার আঁকার পর শিক্ষার্থীরা ভীষণ মজা পায়। আঁকতে যেহেতু সময় লাগে, এক ক্লাসে পুরোটা বোঝানো সম্ভবও হয় না। তাই বারবার আঁকতে হতো। প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীরা যতবার আমাকে আঁকতে বলেছে, আমি ততবার এঁকে ওদের কম্পিউটার বুঝিয়েছি। শুধু মাইক্রোসফট ওয়ার্ড নয়, মনিটর, সিস্টেম ইউনিট, কি-বোর্ড, মাউস, ফরম্যাটিং টুলবার, ড্রয়িং টুলবারসহ যাবতীয় সবকিছু আমি শিক্ষার্থীদের এঁকে দেখিয়েছি। ওরাও খুশি হতো। এভাবে শেখাতেই ওরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। যেকোনো বিষয় বোর্ডে বোঝানোর বিষয়টি ওদের জন্য স্বাভাবিক একটি ঘটনা।’
এ জাতীয় পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের প্রতি যদি কোনো শিক্ষক নিবেদিত থাকেন তাদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন আসতে বাধ্য। রিচার্ডের পেশায় কোনো কার্পণ্য ছিল না। সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। তার এই চেষ্টায় পরিবর্তন আনতে পারত কেবল কম্পিউটারের সরাসরি দক্ষতা।
রিচার্ড জানান, ‘স্কুলের শিশুরা কম্পিউটার নিয়ে অনেক তথ্য জানে। কিন্তু কীভাবে কম্পিউটার সরাসরি চালাতে হয় সেটি তাদের জানা নেই।’ রিচার্ডের বক্তব্যে কনফারেন্সে উপস্থিত সবাই বেশ অবাক হয়েছিলেন। নজর কেড়েছিল তার কাজের প্রতি ভালোবাসা। মাইক্রোসফট তার কাজের জন্য তাকে সম্মানিত করে। রিচার্ডের স্কুলের জন্য ‘ডিভাইস ও সফটওয়্যার সাপোর্ট’ অফার করা হয়। সঙ্গে মাইক্রোসফটের এডুকেটর সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় তাকে। মাইক্রোসফট অঙ্গীকার করে ঘানার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব এবং প্রশিক্ষণের জন্য যাবতীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রিচার্ডের একটি স্কুলে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, এর অর্থ সেখানে এমন আরও অনেক স্কুল রয়েছে যারা কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সাহায্য পাচ্ছে না। তারাও যেন সুযোগ পায় সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমন ছোট্ট একটি পদক্ষেপের কারণে জীবন বদলেছে অনেক শিক্ষার্থীর।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনিসাফ ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করার জন্য সম্পূর্ণ স্কলারশিপ পান রিচার্ড।
শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার
সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর রিচার্ডের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে ঘানাজুড়ে। তার স্কুলের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ও ল্যাপটপ দান করে। আক্বরার একটি কম্পিউটার ট্রেনিং স্কুল ‘এনআইআইটি ঘানা’ স্কুলের জন্য পাঁচটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, অনেক বই এবং রিচার্ডের জন্য একটি ল্যাপটপ দেয়। নিজেদের স্কুলে সত্যি সত্যি একটি আইসিটি ল্যাব হবে, ব্ল্যাকবোর্ডের বদলে হাতে-কলমে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ব্যবহার করে ক্লাস করতে পারবে, এতে শিক্ষার্থীরা ভীষণ আনন্দিত ছিল।
যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির স্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগের একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী আমিরাহ আলহার্থি। ফেইসবুকে রিচার্ডের পোস্ট দেখে তিনি রিচার্ড ও তার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ল্যাপটপ উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সে সময় আমিরাহ বলেছিলেন, ‘ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, নিজের যতটুকু জ্ঞান আছে, সেটা অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিলে আত্মশুদ্ধি যেমন হয়, তেমনই মানবিক দিকেও হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমি আমার সাধ্যের মধ্য থেকে রিচার্ড ও তার স্কুলের জন্য একটি ছোট উপহার পাঠালাম। আমি বিশ্বাস করি রিচার্ডের মতো আরও অনেক বুদ্ধিমান মানুষ আমাদের আশপাশে ছড়িয়ে আছে। শুধু যথাযথ সুযোগের অভাবে তারা আমাদের সামনে আসছে না। খুব খারাপ লাগে এসব ভাবলে।’
স্কুলের বর্তমান চিত্র
বর্তমানে রিচার্ডের স্কুল প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাইক্রোসফটের একজন সহকারীর সহযোগিতায় সেকিয়াডোমেসে বর্তমানে দুটো কম্পিউটার সেন্টার আছে। সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর তিনি যে উপহারগুলো পেয়েছিলেন সেগুলো দিয়েই শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীদের শেখানো। মাইক্রোসফটের কোর্স করার কারণে আধুনিক অনেক কিছু সম্পর্কে জেনেছেন। সেসব এখন প্রয়োগ করছেন শিক্ষা পদ্ধতিতে। শিক্ষার্থীরাও শিখছে নতুন নতুন বিষয়। মাইক্রোসফটের টেকনোলজি শেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে রিচার্ড বলেন, ‘সেই ইভেন্ট থেকে ফেরার পর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল কয়েক গুণ। শুধু আমার জন্য নয়, আমার পেশা ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির দুনিয়ার যাবতীয় কিছু শেখাতে পারব এটাই ছিল মুখ্য। কালকের দুনিয়ায় আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি আসবে। আমি শুধু চাই ওরা যেন সেখানে নির্দ্বিধায় প্রবেশ করতে পারে।’
প্রতিদিন শিশুদের শেখাতে গিয়ে নিজেও শেখেন রিচার্ড। তিনি বলেন, ‘তারা ভবিষ্যতে যে দক্ষতা শিখবে সেটির প্রাথমিক পর্যায় আমি শিখিয়ে দিচ্ছি, এটা ভেবেই আমার আনন্দ হয়। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট কোড, সবকিছুই শিশুরা খুব দ্রুত শিখছে। আমি শুধু আমার শিখে আসা পদ্ধতিগুলো তাদের শেখাই। তাদের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিভা আছে। যার কারণে নতুন নতুন বিষয়ও তারা দ্রুত শিখে ফেলে।’
