ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলায় গোপনে রান্না করা খাদ্যে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে দুটি পরিবারের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাতে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে প্রতিবেশীরা গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের নয় সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অসুস্থরা হলেন আবদুস ছাত্তার (৭২), হোসেন (৬৫), আফিয়া আক্তার (৫২), মো. সোহাগ (৩৫), ইব্রাহিম (৫) ও হুজাইফা (৭)।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঁঞা বলেন, ‘নারী-শিশুসহ নয়জন চিকিৎসাধীন। একজন বাদে সবার অবস্থা উন্নতির দিকে। খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ পেটে যাওয়ায় তারা অসুস্থ হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার রাতে অলিপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মিয়ার বাড়ির আবদুস ছাত্তার ও তার ভাই আবুল হোসেনের ঘরের সবাই রাতের খাবার পেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির ঘরের দরজা খোলা থাকলেও কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে অন্যান্য পরিবারের লোকজন গিয়ে সবাইকে অচেতন অবস্থায় পায়। এ সময় তারা ঘরের আলমারি খোলা ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। একই সঙ্গে অচেতন সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
দাগনভূঁঞা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্বৃত্তরা সোমবার সন্ধ্যার পর গোপনে ঘরে ঢুকে রান্না করা খাবারে চেতনানাশক দ্রব্য মেশায়। ওই খাবার খেয়ে সবাই অচেতন হয়ে পড়লে ঘরে ঢুকে সবকিছু লুট করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
