কুমিল্লায় করোনা রোগী ভর্তি না নেওয়ায় গত রবিবার রাতে বেসরকারি মনিপাল এএফসি হাসপাতালের (সাবেক ফরটিস) চিকিৎসক তানভীর আকবরকে মারধর করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের মামলায় গতকাল মঙ্গলবার রোগীর তিন স্বজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন নগরীর নোয়াগাঁও এলাকার মোজাম্মেল হোসাইন অয়ন, আবদুল্লাহ আল মামুন অনন্ত ও আবদুল কাদের অনিক।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার জানান, ডা. তানভীর আকবর তার ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সোমবার তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ডা. তানভীর আকবর জানান, গত রবিবার রাতে জরুরি বিভাগে এক করোনা রোগী আসার পর চেকআপ করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও আইসিইউ সমৃদ্ধ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্বজনদের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা ভর্তির জন্য বারবার চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মারধর শুরু করেন তারা। হামলার সময় তাকে বাঁচাতে হাসপাতালের কয়েক কর্মকর্তা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার সিসিটিভির একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জনসহ জেলার কর্মরত চিকিৎসরা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, হোসাইন নামে এক করোনা রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ঢাকার কোনো হাসপাতালে আইসিইউতে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্বজনরা কুমিল্লার কোথাও আইসিইউ না পেয়ে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মনিপাল এএফসি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ৫-৬ জন ডা. তানভীর আকবরকে প্রথমে কিল-ঘুষি ও পরে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।
