দ্বিতীয় প্রান্তিক

কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে রবির

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১২:২৪ এএম

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৪৭ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর রবি। ২০২০ সালের একই সময়ের চেয়ে মুনাফা প্রায় ১৯ শতাংশ কম। ওই সময় রবির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) হলেও এপ্রিল-জুন সময়ে বেড়েছে। গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রবির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা হয়।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) রবি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ১৫ পয়সা। আগের বছর এই সময় তাদের শেয়ার প্রতি মুনাফা ১৬ পয়সা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্থিতিশীল ঊর্ধ্বগামী রাজস্ব এবং দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের পিএটি পৌঁছেছে ৮১ কোটি টাকায়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি। এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির ফোরজি গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি ডেটা সেবা থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডেটা সেবায় রাজস্ব আয় গত প্রান্তিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এপ্রিল-জুন সময়ে রবির ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০২০ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। রবির ৫ কোটি ১৮ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ২ কোটি গ্রাহক ফোরজি সেবার আওতায় এসেছেন। মোট গ্রাহকের ৭২ দশমিক ৪ শতাংশই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। গ্রাহক প্রতি মাসিক ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯ গিগাবাইটে। রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় কল সেন্টার ৩৩৩-এ সহযোগিতা করতে পেরে আমরা গর্বিত, যা কভিড হেল্পলাইন হিসেবে নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৩৩-এর মাধ্যমে নাগরিকদের দ্বারপ্রান্তে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। রবির টেন মিনিট স্কুলের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন সব বয়সের ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে মানসম্পন্ন শিক্ষা কনটেন্ট সরবরাহ করছি।’

তবে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) নিয়ন্ত্রণে ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, সামগ্রিক প্রতিযোগিতামূলক ত্রুটিগুলো বাজারকে ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিযোগিতার এমন ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট অপারেটরদের জন্য। ত্রুটিপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া এবং বিতরণব্যবস্থা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণœ করছে এবং একই সঙ্গে টেলিকম শিল্পকে দুর্বল করে ফেলছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাহতাব বলেন, ‘আমাদের বাজারে উল্লেখযোগ্য একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। ফলে প্রতিযোগীরা উদ্ভাবনী ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। অথচ দেশের ভবিষ্যতের জন্য এ খাতে বিনিয়োগ জরুরি।’

বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, এ বিষয়গুলো অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপ প্রকাশ করে, কোনো কোম্পানি তাদের সঙ্গে নিবন্ধিত থাকলে তারা এগিয়ে থাকে এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া বাংলাদেশে তরঙ্গস্বল্পতা ও টাওয়ারগুলোয় সরাসরি ফাইবার অপটিক সংযোগের স্বল্পতা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রবির গ্রাহক সংখ্যা ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহক সংখ্যা কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি ৫৮৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এ প্রান্তিক শেষে রবির ফোরজি সাইট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৫টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত