প্রণোদনা ঋণের অপব্যবহার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তায় দুদিন পতনের পর গতকাল বুধবার দেশের উভয় পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় সব ধরনের সূচক বেড়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে ৫৮ শতাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩২ শতাংশ। দ্বিতীয় পুঁজিবাজার সিএসইতে ৫৪ শতাংশের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ সিকিউরিটিজ।
সার্বিক হিসাবে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বাড়লেও খাতওয়ারি হিসেবে তুলনামূলক বেশি বেড়েছে বীমা এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারদর। অন্য অধিকাংশ খাতে ছিল মিশ্রধারা। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের সার্বিক শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী ধারা ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে ২১৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে, ১২২টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৫টির দর। বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে ডিএসইএক্স সূচক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪১৭ পয়েন্টে উঠেছে। সূচকটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মাত্র ৭ পয়েন্ট নিচে রয়েছে। এর আগে দুদিনে প্রধান সূচকটি ৪৪ পয়েন্ট হারায়।
চট্টগ্রামের পুঁজিবাজার সিএসইতে ১৭২ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১০৩টির দর কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দর। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ১১১৮২ পয়েন্টে উঠেছে। দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার।
ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বীমা খাতের ৫১ কোম্পানির মধ্যে ৪৩টির বাজারদর বেড়েছে, দর কমেছে সাতটির। বাকি একটির দর অপরিবর্তিত। সাত শেয়ার দর হারানোর পরও এ খাতের সার্বিক শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এর মধ্যে মঙ্গলবারের মতো গতকালও পিপলস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে (১০ শতাংশ) কেনাবেচা হয়েছে, ছিল দরবৃদ্ধির শীর্ষে এবং লেনদেনের পুরো সময়ে বিপুল ক্রয়াদেশের বিপরীতে বিক্রেতার ঘরশূন্য দেখা গেছে। বীমা খাতের অন্য শেয়ারগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির তালিকায় এর পরের অবস্থানে ছিল জনতা, ডেল্টা লাইফ, সিটি জেনারেল, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। এগুলোর বাজারদর ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
খাতওয়ারি দরবৃদ্ধিতে পরবর্তী অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। এ খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২টির এবং বাকি ছয়টির দর অপরিবর্তিত। একক কোম্পানি হিসেবে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ার। এটি ছিল দরবৃদ্ধির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। বস্ত্র খাতের আরও যেসব শেয়ার দরবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল, সেগুলো হলোÑ দেশ গার্মেন্টস, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল। এসব শেয়ারের দর সাড়ে ৪ থেকে সোয়া ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্য খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ১১ কোম্পানির মধ্যে ৯টির বাজারদর বেড়েছে। এ খাতের আমরা টেকনলোজির শেয়ারদর সাড়ে ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। লেনদেন হওয়া ৩৬ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, কমেছে তিনটির। গড়ে এ খাতের বাজারদর বেড়েছে দেড় শতাংশ। সর্বাধিক ৮ শতাংশ দর বেড়েছে ভ্যানগার্ড-বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ডের।
খাতওয়ারি হিসেবে গতকালের লেনদেনে এ চার খাতের প্রাধান্য দেখা গেলেও একক কোম্পানি হিসেবে দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একক কোনো খাতের প্রাধান্য ছিল না। পিপলস ইন্স্যুরেন্স এবং সাফকো স্পিনিংয়ের পর দরবৃদ্ধির পরের অবস্থানে ছিল সিরামিক খাতের ফু-ওয়াং সিরামিক, রসায়ন খাতের সালভো কেমিক্যাল, খাদ্য খাতের রহিমা ফুড, ওষুধ খাতের বিকন ফার্মা। এসব শেয়ারের দর ৮ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও সূচক বাড়লেও গতকাল ডিএসইর লেনদেন প্রায় ১০২ কোটি টাকা কমে ১ হাজার ৩৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমেছে। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে বীমা কোম্পানিরই প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ। তবে একক কোম্পানি হিসেবে সর্বাধিক ৪৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ফু-ওয়াং সিরামিকের।
