রাজাকারের সন্তানদের দম্ভ চূর্ণ করতে হবে : আইজিপি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:৪৫ এএম

রাজাকারের সন্তানদের দম্ভ চূর্ণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘রাজাকার-পুত্ররা সামাজিক মাধ্যমে দম্ভ করছে। স্বাধীনতার মাত্র ৫০ বছরের মধ্যে তারা কীভাবে এ দুঃসাহস পায়? দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম, লাখো মানুষ খুন-গণহত্যা যারা চালিয়েছে, তাদের এ দম্ভ চূর্ণ করতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে।’

গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নোয়াখালীর মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য ‘নির্ভীক’, সুধারাম মডেল থানা, সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইনস নারী ব্যারাক ভবন উদ্বোধন ও ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ : নোয়াখালী জেলা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এটি একটি ঐতিহাসিক দায় ও কর্তব্য।’

স্বাধীনতার জন্য সপরিবারে নোয়াখালী জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল হাকিমের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আইজিপি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষ দুর্নিবার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিল। আমাদের সেই অহংকারের জায়গাগুলো আরও সুসংহত করতে হবে। বই, ভাস্কর্য হতে পারে এর অন্যতম নিয়ামক।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে পুলিশের অবদান দুটি কারণে ডকুমেন্টেড হওয়া দরকার। একটি হলো, জাতির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে। বাঙালি জাতির উত্তরণের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের যে ভূমিকা, তা ডকুমেন্টেড হতে হবে। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে এগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে তারাও নিজেদের মর্যাদাবান জাতি হিসেবে তৈরি করতে পারে।’

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এস এম রুহুল আমিন, মো. মাজহারুল ইসলাম, এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সভাপতি হাবিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ : নোয়াখালী জেলা’ বইটি সম্পাদনা করেছেন মো. আলমগীর হোসেন। গবেষণায় ছিলেন এ কে এম গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ, আবু নাছের মঞ্জু ও মো. এনায়েত করিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত