খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উপজেলার পথেরবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইয়াসিন শেখ (৪২) হত্যা মামলার এজাহার পাল্টানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী নিহতের মা হাফিজা বেগম। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাফিজা বেগম বলেন, ‘গত ২৫ জুলাই রাতে আমার ছেলে ইয়াসিন শেখকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২৭ জুলাই আমি ও আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা করার জন্য দিঘলিয়া থানায় উপস্থিত হই। আমার ছেলে ইয়াসিনকে যারা হত্যা করেছে, ইন্ধন জুগিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে তাদের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ থানায় জমা দেই। পুলিশ আমাকে বলল মামলা নেওয়া হবে একটু বসেন। আমি দুই ঘণ্টার বেশি থানায় বসে থাকি। এরপর পুলিশ একটি কাগজ এনে বলে, এখানে স্বাক্ষর করেন। আমি বললাম এটি কী? জবাবে বলে, মামলা হয়েছে, তাই স্বাক্ষর করতে হবে। আমি সরল মনে স্বাক্ষর করে চলে আসি। বাড়ি এসে রাতে শুনতে পাই আমি যে অভিযোগটি দাখিল করেছি পুলিশ সেই অভিযোগ পাল্টে ফেলে তাদের লেখা অভিযোগে আমার স্বাক্ষর করিয়ে মামলা রেকর্ড করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার যে অভিযোগপত্র দিয়েছিলাম সেখানে ৩২ জনকে আসামি করেছিলাম ও সাক্ষীর নাম উল্লেখ ছিল। কিন্তু পুলিশ যে অভিযোগপত্র রেকর্ড করেছে তাতে ১৫ জনকে আসামি করেছে। সেই সঙ্গে মামলার সাক্ষীর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। যেসব আসামি আমার ছেলেকে কুপিয়েছে তাদের অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের কাছে এর সুবিচার চাই।’
হত্যাকান্ডের শিকার ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে দিঘলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রিপন কুমার সরকার বলেন, ‘পুলিশ সুপার স্যার, সার্কেল অফিসার স্যারের উপস্থিতিতে ২৭ জুলাই নিহত ইয়াসিন শেখের মা হাফিজা বেগম আমাদের কাছে যে এজাহার দিয়েছেন সেটাই আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। এ সংক্রান্ত সব প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
