শিল্প-কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:১১ পিএম

পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের কারখানা খুলে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ, ঢাকা চেম্বার ও এফবিসিসিআইয়ের নেতারা বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, চলমান লকডাউন থেকে সব ধরনের শিল্পকে বাদ দিয়ে কাজ করার সুযোগ চেয়ে অনুরোধ করতে এসেছিলাম।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা বলেছি। ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ থাকলে কী প্রবলেম হয় তা জানিয়েছি। কারণ সাপ্লাই চেইন ভেঙে যাচ্ছে। পোর্টে জটের কথা আপনার সবাই জানেন। আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা আছে আমাদের। লাস্ট, আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও সাপ্লাই চেইনে প্রবলেম হচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে এই অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা দেবেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পোশাক শিল্প শুধু না, সমস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পক্ষে আমরা এসেছি। সমস্ত শিল্পের সঙ্গে অনেক কিছু ইনভলভড। সে কারণে আমরা এটা আবারও অনুরোধ করেছি। যেন এটাকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়, যেন বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।

কোনা নির্ধারিত দিন থেকে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যেহেতু ২৩ তারিখ থেকে লকডাউনে সব কিছু বন্ধ আছে, ঈদের আগে অলমোস্ট ১৮-১৯ তারিখ থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে, সবকিছু অনেকদিন বন্ধ থাকার কারণে সবকিছুরই সাপ্লাই চেইনে একটা শর্টেজ হয়। আমাদের এক্সপোর্ট যেটা আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে লোকাল এবং পোর্টেও অনেক ইমপোর্টেড মাল আসে। সে কারণে যদি ফ্যাক্টরিগুলো, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো না খোলে, পোর্ট থেকে কন্টেইনারে মাল রিলিজ না করলে একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য কারখানা খুলে দেওয়া দরকার মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শ্রমিকরা গ্রামে থাকলে সেখানে ডাক্তার বা ওষুধের দোকান বা হসপিটাল নাই। কিন্তু যে ফ্যাক্টরিগুলো আছে, যার আশেপাশে তারা থাকে, সেখানে যদি থাকে, তাহলে শ্রমিকদের আমরা নিরাপত্তা দিতে পারি।

গত এপ্রিলে এবং জুলাই মাসের শুরুতে যখন লকডাউন জারি হয়েছিল, তখন শিল্প-কারখানা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে কারখানাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত