কমেডি কখনো ভাঁড়ামির পর্যায়ে যায়নি

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:১০ পিএম

ছোটপর্দার ব্যস্ত নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ এবার ঈদে নিজের ঘরানা ভেঙে আত্মপ্রকাশ করেছেন নতুন নাটকে। আর তাতেই বাজিমাত। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

ঘরানা পরিবর্তন...

নির্মাতা হিসেবে আজ যে অবস্থানে এসেছি সেটি হয়েছে রোমান্টিক ও কমেডি নাটক নির্মাণ করে। তবে আমার নাটকে কমেডি কখনো ভাঁড়ামির পর্যায়ে যায়নি। কমেডি এনেছি গল্পের প্রয়োজনে। প্রয়োজন শেষে গল্প অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। দর্শক আমার কাছ থেকে এ ধরনের কাজই বেশি প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমার যে সমাজ নিয়ে, মানুষ নিয়ে আরও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে সেটিকেও নির্মাতা হিসেবে মানুষের কাছে প্রকাশ করা জরুরি। তাই এবার ঈদে যে কাজগুলো করেছি তাতে সচেতনভাবেই প্রেম ও কমেডির ছোঁয়া এড়িয়ে গেছি। এবারের প্রতিটি নাটকে একটি সামাজিক বার্তা দিতে চেয়েছি।

প্রশংসিত কাজ...

এবার ঈদে চারটি নাটক পরিচালনা করেছি। তারমধ্যে শুরু থেকেই ইতিবাচক আলোচনায় আসে ‘মায়ের ডাক’ নাটকটি। ‘সুইপারম্যান’ প্রচারের পর সেটি নিয়েও অসাধারণ রেসপন্স পাচ্ছি। মায়ের ডাকে মা ও তার সন্তানদের মধ্যে যে বাস্তব সম্পর্ক বিদ্যমান আমাদের সমাজে সেটি দেখিয়েছি। মায়ের শেষ বয়সের আকুতি সবাইকে ছুঁয়ে গেছে। আর সুইপারম্যান নাটকে দেখাতে চেয়েছি সমাজে এই পরিষ্কারকর্মীদের যেভাবে নিচু চোখে দেখানো হয়, তাতে তাদের জীবনের স্বপ্নগুলো কীভাবে প্রভাবিত হয়।  রোমান্টিক ও কমেডি ঘরানার কাজ করলে হয়তো আরও ইউটিউব ভিউ হতো। কিন্তু আমি ভিউ না গুনে মানুষের ভালোবাসা গুনেছি। আর এরইমধ্যে এত ভালোবাসা পেয়েছে যে সেগুলো গুনতে গুনতে ক্লান্ত! সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার চিন্তাভাবনা দর্শকের সঙ্গে মিলে গেছে। তারা বিষয়গুলোকে ভালোভাবে নিয়েছে। তারপরও সবাই একই রকম করে ভাবে না। যদি আমার অজান্তেও কেউ কোনো ভুল বার্তা পেয়ে থাকেন তাহলে আগে থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।  

স্বস্তি...

গত দুই ঈদেই একটা বিষয় খেয়াল করেছি। ভালো গল্পের নাটকগুলো নিয়েই মানুষ কথা বলছে, দেখছে। এই ঈদে ‘মায়ের ডাক’ কিংবা ‘সুইপারম্যান’ নাটক ইন্ডাস্ট্রির জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকল। এখন কেউ বলতে পারবে না সিরিয়াস গল্প কেউ দেখে না। প্রযোজকরাও এ ধরনের ভালো গল্পের পেছনে অর্থ অগ্নি করতে সাহস করবেন। তবে কিছু চ্যানেল, প্রযোজক কিংবা আর্টিস্ট থাকবেই যারা মানহীন কাজ করেই যাবে। হয়তো তাদের কেউ কেউ আমার নাটকেও আছে। কিন্তু তাদের আসলে ভাবার সময় এসেছে, কোন কাজ করা উচিত আর কোন কাজ করলে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে।

কাস্টিং...

গল্পের প্রয়োজনে যাকে নিয়ে কাজ করা উচিত তাকেই আমি কাস্টিং করি। কোনো পেশাকে ছোট করে দেখি না। এজন্যই সুইপারদের গল্প বলেছি। যদি মনে হয় রিকশাওয়ালা কিংবা বাড়ির কাজের লোক আমার গল্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই তাকে নিয়েই কাজ করব। পরিচালক হিসেবে অন্তত এই বোধটুকু আমার আছে যে কাকে দিয়ে কী করানো সম্ভব। কাস্টিং নিয়ে কারও প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। এজন্যই আমি আরজে কিংবা ইউটিউবার নিয়ে কাজ করেছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত