বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:৩০ এএম

গত বছরই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু করোনার ভয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেই সিরিজ বাতিল করে দেয়। এক বছর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া দল। যদিও টি-টোয়েন্টির সেরা তারকারাই নেই। তবুও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরই মূল বিষয়। উইন্ডিজের বার্বাডোজ থেকে চার্টার্ড বিমানে করে লম্বা ভ্রমণ শেষে কাল বিকেল সোয়া ৪টায় ঢাকা পৌঁছে অস্ট্রেলিয়া। বিমানবন্দরে আলাদা ইমিগ্রেশন শেষে টারমার্ক থেকেই টিম বাসে উঠে হোটেলে এসেছে তারা। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিনের রুম কোয়ারেন্টাইন শেষে ১ আগস্ট থেকে ব্যাট-বলের অনুশীলনে নামবে দুই দল।

আসন্ন সিরিজটিতে বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়া দল যতটা না কঠিন প্রতিপক্ষ তার চেয়ে অজি বোর্ডের চাহিদা পূরণই কঠিন হয়ে উঠেছে। এ সিরিজের আলোচনার শুরু থেকেই একের পর এক বায়ো বাবল শর্ত জুড়ে দিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কঠোর বায়ো বাবল নিয়মের জন্য এই সিরিজে খেলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নেই মুশফিকুর রহিম। বিষয়টিকে অবান্তর বলছেন বাংলাদেশ দলেরই একজন অভিজ্ঞ সদস্য। ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘মুশফিককে খেলতে না দেওয়া এক রকম অবিচার। কারণ আমরা সাধারণ বিমানে করে তিনটি বিমানবন্দর ঘুরে ঢাকা এসেছি। হারারে, জোহানেসবার্গ ও দোহায় করোনা ছড়ানোর শঙ্কা কি নেই? তাহলে আমরা তো ঝুঁকিতে আছি। মুশফিক এখানে এমনিতেই ঘরে ছিল। আমাদের জন্য যদি কোনো সমস্যা না হয় তাহলে মুশফিকের জন্যও তো হওয়ার কথা নয়।’ শুধু মুশফিকের বিষয়টি নয়। এ সিরিজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বেশি বেশি বায়ো বাবল নিয়মের দাবি করছে বলে বাংলাদেশ দলের মধ্যেই ক্ষোভ জন্মেছে। সঙ্গে বিসিবি সব মেনে নিচ্ছে বলেও একটা ‘ভালো না লাগা’ বাতাসে ভাসছে। বিষয়টিকে অবশ্য এভাবে দেখতে চাইছেন না বিসিবির একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে এমন না যে আমরা ওদের সব চাওয়া মেনে নিচ্ছি। ওরাও কিন্তু এ ব্যাপারে খুব সতর্ক। এজন্য ওরা চার্টার্ড বিমানে করে সরাসরি উইন্ডিজ থেকে এখানে এসেছে। যেন কোনো বিমানবন্দরে থামতে না হয়। তারা ক্রিকেটারদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা শুধু তাদের কিছু চাওয়া পূরণ করেছি।’ 

অস্ট্রেলিয়ার দাবি মেটাতে সিরিজ-সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেই ২০ জুলাই থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। বিমানবন্দরে তাদের জন্য বিশেষ ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টারমার্ক থেকে সরাসরি টিম বাসে উঠেছে তারা। যা এর আগে কোনো দলের ক্ষেত্রে হয়নি। খেলোয়াড়দের পাসপোর্ট জীবাণুমুক্ত করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ জীবাণুমুক্ত করে তিন দিন পর পাসপোর্ট ফেরত দেবে অস্ট্রেলিয়া দলকে। এর মধ্যে নতুন সমস্যা মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা এবং ডিআরএস টেকনিশিয়ানকে নিয়ে। ডি সিলভা বুধবার শ্রীলঙ্কা থেকে ঢাকা ফিরে পিচ দেখতে যান মিরপুর স্টেডিয়ামে। অথচ তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন না। আর ডিআরএস টেকনিশিয়ান গতকাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড থেকে ঢাকা এসে পৌঁছাননি। তাই বায়ো বাবল প্রটোকল অনুযায়ী দুজনই এ সিরিজের বাইরে। কিন্তু ৭ দিনে ৫ ম্যাচের জন্য কিউরেটরকে সার্বক্ষণিক দেখভাল করতে হবে। আর বিসিবি বলছে ডিআরএস থাকবে এই সিরিজে। তাহলে ডিআরএস টেকনিশিয়ানও আসছেন। তাই এ দুজনের জন্য নতুন ব্যবস্থা করছে বিসিবি। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া বলেছে কোয়ারেন্টাইনের বাইরে থাকা কেউ (খেলোয়াড়, টিম স্টাফ ব্যাতিত) সিরিজে কাজ করলে তাকে কোয়ারেন্টাইন করাদের থেকে আলাদা থাকতে হবে। তাই গামিনি এ সিরিজে কাজ করবেন ঘর থেকে। আর ডিআরএস টেকনিশিয়ানের জন্য স্টেডিয়ামে আলাদা কক্ষ দেওয়া হবে।

মুশফিকসহ তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের না থাকার পরও বাংলাদেশ এই সিরিজে এগিয়ে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার অনভিজ্ঞ দল। এ দলটিই উইন্ডিজের কাছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। চোট ও ব্যক্তিগত কারণ মিলিয়ে এই সফরে নেই ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, প্যাট কামিন্স, জাই রিচার্ডসন, কেন রিচার্ডসনের মতো শীর্ষ কয়েকজন ক্রিকেটার। ক্যারিবীয় সফরে চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও। তাই অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার যেকোনো ফরম্যাটের সিরিজে হারানোর স্বপ্নটাও রঙিন বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের শক্ত চ্যালেঞ্জ সামলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারানোর আত্মবিশ্বাস আছে মাহমুদউল্লাহদের। 

এ নিয়ে চতুর্থ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০০৬ সালে প্রথমবার বাংলাদেশ সফরে আসে তারা। দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজের সবকটি ম্যাচ জিতেছিল সফরকারীরা। ২০১১ বিশ্বকাপের ঠিক পরে খেলে তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজেও জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। সবশেষ ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ানরা খেলে যায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এবার বাংলাদেশের কাছে প্রথমবার টেস্টে হারলেও সিরিজ ১-১-এ ড্র করে তারা। এ ছাড়া ১৯৯৮ সালে, আইসিসি নকআউট বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া দল : অ্যাস্টন অ্যাগার, ওয়েস অ্যাগার, জেসন বেহরেনডর্ফ, অ্যালেক্স ক্যারে, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান, জশ হ্যাজেলউড, মোজেস হেনরিকস, মিচেল মার্শ, বেন ম্যাকডারমট, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপ, মিচেল স্টার্ক, মিচেল সোয়েপসন, অ্যাস্টন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাডাম জাম্পা। রিজার্ভ : ন্যাথান এলিস, তানভির স্যাঙ্ঘা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত