ডায়েট এমন একটি শব্দ, যা ছোট-বড় সবাই জানেন। কিন্তু বোঝেন কয়জন! ইন্টারনেটের কল্যাণে জানার কোনো শেষ নেই। তাই যে বিষয়গুলো আপনার নিজের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সেটা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই বুঝে গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেমন অনেকের ধারণা, ভাত কখনো ডায়েটের অংশ হতে পারে? অর্থাৎ ডায়েট করছেন তো অবশ্যই আপনাকে ভাত বর্জন করতে হবে। ভাত খেলে ডায়েট হবে না এমনটা ভাবা ঠিক না। কিন্তু আপনি ভাতের পরিবর্তে নুডলস, ওটস রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। অথচ ডায়েটে প্রসেসড খাবার যত কম রাখা যায় ততই ভালো।
বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সমস্যা (যদি থাকে), আবহাওয়া, ফুডহ্যাবিট, লাইফস্টাইল, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, খাদ্যপ্রাপ্তি ইত্যাদির ওপর ডায়েট নির্ভর করে। এরপর নির্ভর করবে আপনি ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত যা খাবার হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তা কি খাবার নাকি প্যাকেটজাত কোনো উপকরণ? দীর্ঘদিন এমন কোনো বাণিজ্যিক উপাদান গ্রহণ করছেন না তো যা আপনাকে পরে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে নিতে পারে? নিজের জন্য কোনটা গ্রহণ করবেন জানা প্রয়োজন। সাময়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য এমন কোনো কিছু গ্রহণ করা উচিত নয়, যা আপনাকে পরে অসুস্থ করতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, ডায়েট করতে গেলে কুসুম ছাড়া ডিম-সবজি-শাক-ফল-বাদামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি তাদের ক্ষেত্রে। ভেবে থাকেন, গরু বা খাসির মাংস তথা রেডমিট একেবারেই খাওয়া যাবে না। মূলত ডায়েট করতে কোনো অস্বাভাবিক খাবার ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ওপর ডায়েট নির্ভর করে। যে কোনো মানুষের খাদ্যাভ্যাস একজনের থেকে আরেকজনের আলাদা হয়ে থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির পরিপাক ও শোষণ প্রক্রিয়াও আলাদা। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে খাদ্য গ্রহণ মিল না রেখে কেউ ডায়েট করলে দেহে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একজন স্থূল ব্যক্তির যদি পুরো ডিম খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাকে কুসুম ছাড়া ডিম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কুসুমসহ ডিম দিলে ক্যালরি কিছুটা বেশি আসবে তাতে সন্দেহ নেই। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে কীভাবে তার সামঞ্জস্য বিধান করতে হয় সে বিষয়গুলো জানলেই হবে। অর্থাৎ একজন স্থূল ব্যক্তির দেহেই জমে থাকে অনেক ক্যালরি। দেহের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করলে খুব সহজে ওজন কমে যাবে। ডায়েটে পুরো ডিম গ্রহণে যেমন আত্মতৃপ্তি থাকবে অন্যদিকে ক্যালরি খরচ করতেও আগ্রহী হবেন।
অনেকেই সবজি খেতে চান না, কিন্তু ফল পছন্দ করেন। ডায়েট করতে গিয়ে জোর করে তাকে সবজি বা সালাদ খেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। সবজির বিকল্প হিসেবে মিক্সড ফলের পরিমাণ বৃদ্ধি করলেই হয়। ডায়েট মানেই কাঠবাদাম বা কাজুবাদামের মতো দামি বাদাম খেতে হবে এমনও কোনো কথা নেই। চিনাবাদাম, ছোলা, শিমের বীচি, কাঁঠালের বীচিও থাকতে পারে। ডায়েট করতে গেলে অ্যাপেলসিডার ভিনেগার বা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলই খেতে হবে এমনও কোনো কথা নেই। যখন এগুলোর প্রচলন ছিল না, তখন বরং মানুষ বেশি সুস্থ ছিলো। রোগও কম ছিল। অনেকে মনে করেন ডায়েট করতে যাওয়া মানেই অনেক খরচের ব্যাপার এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সম্পূর্ণ দেশীয় খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে ডায়েট করা যায়। প্রয়োজন শুধু নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সদিচ্ছা এবং দেহের সমস্যা বুঝে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হওয়া।
