বাড়তি দামে মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। গত ১৯ জুলাই সোনালী ব্যাংক, সিরাজগঞ্জ শাখায় চালান রসিদের মাধ্যমে এ টাকা ফেরত দেন হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল।
সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল স্বাক্ষরিত এক চালান রসিদ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ই-চালান যাচাইয়ে দেখা যায়, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত প্রদত্ত টাকা কোডে (২৬৭১) এ অর্থ জমা হয়েছে। রক্ত পরীক্ষায় ব্যবহৃত আরবিসি কাউন্টার নামে ছোট্ট ৫০টি টিউব কিনতে এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করে। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি টিউবের জন্য প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখালেও অডিট আপত্তিতে তা ধরা পড়ে। এরপর প্রতিটি টিউবের মূল্য ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বাকি টাকা কর্র্তৃপক্ষকে ফেরতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যদিও বাজারে এ ধরনের টিউব ৩০০-৫০০ টাকায় পাওয়া যায়।
আরবিসি কাউন্টার টিউবসহ বেশ কয়েকটি সরঞ্জাম কেনাকাটায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গত ১১ জুলাই দেশ রূপান্তরে ‘২ হাজার টাকার ‘টিউব’ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সে সময় ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল দাবি করেছিলেন, ‘অডিট আপত্তির বিষয়ে আমরা আমাদের জবাব দিয়েছি। বাড়তি অর্থ ব্যয়ের যে বিষয় বলা হয়েছে, তা চালানের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ বাস্তবে কোনো অর্থই তিনি ফের দিয়েছিলেন না, যা প্রতিবেদন প্রকাশের এক সপ্তাহ পর গত ১৯ জুলাই অর্থ জমা দেওয়ায় স্পষ্ট হলো।
চালান রসিদে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সোনাকান্দা, বন্দর, নারায়ণগঞ্জের সরবরাহকৃত আরবিসি কাউন্টার কেনা বাবদ অতিরিক্ত গৃহীত ৬৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখা, সিরাজগঞ্জে জমা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে হাসপাতালের সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা ও দায়ীদের খুঁজে বের করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিস দিয়েছেন মো. আনিচুর রহমানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।
শুধু আরবিসি কাউন্টার নয়, দুটি ডিসেক্টিং ও একটি অটোপসি টেবিল কিনতে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ৯৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করেছে। অডিট আপত্তিতে বলা হয়, সরকারি মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ব্যবহৃত এ ধরনের অটোপসি টেবিলের সর্বোচ্চ দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে বাজার যাচাই করে এগুলোর দাম ১০-২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
একাধিক পণ্য কেনায় অনিয়মের অভিযোগসহ অডিট আপত্তি থাকলেও সেসব টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে ডা. কৃষ্ণ কুমার পালের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি।
