জুলাই মাসে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে খুলনায় করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। গত এক মাসে বিভাগের ১০টি জেলায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে সর্বাধিক মৃত্যুর সঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক রোগীও শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি ওই মাসেই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হয় বলেও জানা যায়। যদিও মাসটির শেষের দিকে এসে সংক্রমণ-মৃত্যু দুটোই কমে যায়। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে জুলাই মাসে বিভাগে সর্বাধিক ১ হাজার ৩১৮ জনের মৃত্যু হয়। সে হিসাবে মাসটিতে দৈনিক গড়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়। ওই এক মাসে শনাক্ত হয়েছিল সর্বাধিক ৩৬ হাজার ১৫ জন। দৈনিক গড় আক্রান্ত হিসাবে তা ১ হাজার ১৬১ জন।
এদিকে জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৬২৪ জন। এরপর কুষ্টিয়ার অবস্থান। এই জেলায় ৫৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া যশোরে ৩৪৪, ঝিনাইদহে ২০২, চুয়াডাঙ্গায় ১৬১, মেহেরপুরে ১৩৭, বাগেরহাটে ১২৩, নড়াইলে ৯২, সাতক্ষীরায় ৮৫ ও মাগুরায় ৬৭ জন মারা গেছেন। এর আগে গত বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর গত ৭ জুলাই খুলনা বিভাগে এক দিনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। আর ৯ জুলাই সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, করোনার ডেল্টা বা ভারতীয় ধরনের কারণেই বিভাগটিতে জুলাই মাসে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে খুলনা ছাড়াও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, জুলাই মাসে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে মোট ১ হাজার ৮৭৮ জন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে মারা যান ৫৩১ জন। তাদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে ১৮০ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩২০ জনের মৃত্যু হয়। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। ঢাকার বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের করোনা পরিস্থিতির খবরাখবর দেশ রূপান্তররের ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে-
খুলনা বিভাগে একদিনে ৪০ মৃত্যু : খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮০ জন। গতকাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার সর্বোচ্চ ১৬ জন, যশোরের ৭ জন, খুলনা ও ঝিনাইদহে ৫ জন করে, বাগেরহাটে ৩ জন, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গার ২ জন করে রয়েছেন।
মমেক হাসপাতালে ২১ জনের মৃত্যু : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জন ও উপসর্গ নিয়ে ১২ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ১৬ জন, জামালপুরের ২ জন, টাঙ্গাইলের ২ জন ও গাজীপুরের একজন রয়েছেন। এ ছাড়া একদিনে ১ হাজার ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষায় আরও ৩১২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
বরিশাল বিভাগে শনাক্ত ৬৮৫, মৃত্যু ১৬ : বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় ৫ ও উপসর্গ নিয়ে ১১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গতকাল সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৮৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার হিসাবে যা ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনায় মারা যাওয়াদের মধ্যে বরিশালের ২ জন, বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর একজন করে রয়েছেন।
রামেক হাসপাতালে একদিনে ১৮ মৃত্যু : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ ও উপসর্গ নিয়ে ১২ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ১০২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন, নাটোরের ৪ জন, নওগাঁর ৩ জন, পাবনার ৩ জন ও কুষ্টিয়ার একজন রয়েছেন।
চট্টগ্রামে শনাক্ত ৯২৭, মৃত্যু ১১ : চট্টগ্রামে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২৭ জন। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে মহানগর এলাকার ৫৩২ জন ও উপজেলা এলাকার ৩৯৫ জন রোগী রয়েছেন। শনাক্তের হার ২৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। শনাক্তের মধ্যে নগরীর বাইরে উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারীতে সবচেয়ে বেশি ১০৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উপজেলায় গত শনিবার পর্যন্ত ৪১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ১৪ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩১৬ জন।
