একটি ভালো পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন একটি শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানী ঘিরে তৈরি হওয়া মহাপরিকল্পনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলই মনে করা হয়। সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশদ পরিকল্পনা অঞ্চল (ড্যাপ) হিসেবে সরকারিভাবে পরিচিতি পায় ১৯৯৫ সালে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের তৈরি (রাজউক) শহরের ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার অধিক্ষেত্র নিয়ে প্রণয়ন করা এটি সরকারিভাবে সর্বোচ্চ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আরেকটি মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ নিয়ে মাঠে নেমেছে। ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড মাস্টারপ্ল্যান ফর ঢাকা সিটি’ নামে এ কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, একটি শহরের জন্য একটি মূল মাস্টারপ্ল্যানই হবে। এখানে একাধিক হওয়ার সুযোগ নেই। মাস্টারপ্ল্যান বলতে যা বোঝায় তা রাজউক করেছে। এখন অন্য সংস্থা প্রান্তিক পর্যায়ে পরিকল্পনা করতে পারে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মাঠে নামে এতে মূল কাজ ব্যাহত হবে।
ঢাকার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ যেভাবে শুরু : পাকিস্তান আমলে ১৯৫৯ সালে ঢাকার জন্য করা মহাপরিকল্পনা ছিল মূলত একটি স্থির রূপকল্পভিত্তিক নগর পরিকল্পনা। পরে সময়ের বিবর্তনে তা পরিবর্তিত হয়ে ধীরে ধীরে কৌশলগত পরিকল্পনার দিকে এগোতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ঢাকার জন্য তিন স্তরবিশিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে যে পরিকল্পনাটি প্রস্তুত হয়, তার শিরোনাম দেওয়া হয় ‘ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা’। এর স্তরগুলো ছিল যথাক্রমে ঢাকা কৌশলগত পরিকল্পনা, নগর এলাকা পরিকল্পনা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা।
রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা : ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিল প্রথম দফায় এ মহাপরিকল্পনা। সর্বশেষ যে মহাপরিকল্পনাটি করা হয়েছে তা ‘ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)’ বা ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০১৬-৩৫’ (সংশোধিত)। এ মহাপরিকল্পনায় ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা রাজউকের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানের সীমানা : ড্যাপ অনুযায়ী, রাজউকের সীমানা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, কালীগঞ্জ ও রূপগঞ্জ উপজেলা, কালীগঞ্জ পৌরসভা, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ও সাভার উপজেলা। বর্তমান ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাটি’ ২০ বছর মেয়াদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
যা আছে রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় : ভূমি ব্যবহার এলাকা, যেমন কৃষি এলাকা, বনাঞ্চল, উন্মুক্ত স্থান, আবাসিক এলাকা, আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকা, ভারী ও দূষণকারী শিল্প এলাকা, প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা, জলাশয়, পরিবহন ও যোগাযোগের বিশেষ ব্যবস্থাপনা এলাকা, বন্যা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এলাকা, মুখ্য জলস্রোত এলাকা, সাধারণ জলস্রোত এলাকা, সাধারণ বন্যা অববাহিকা, দুর্যোগসংক্রান্ত ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পসংক্রান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা/নিদর্শন, বিমান উড্ডয়নসংক্রান্ত উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ এলাকা, জনঘনত্ব বিন্যাস, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, নদীতীর ব্যবস্থাপনা, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকা, ট্রানজিটভিত্তিক উন্নয়ন এলাকায় রূপান্তর করা হয়েছে।
এই মহাপরিল্পনায় পুরো মেট্রোপলিটন এলাকার প্রায় ৯৪ হাজার ৫৮ দশমিক ৪২ হেক্টর জমিকে ‘নগর এলাকা’ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট পরিকল্পনা এলাকার ৬১ দশমিক ৬১ শতাংশ। মিশ্র ব্যবহার এলাকায় আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যপ্রধান এবং শিল্পপ্রধান এলাকা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। আর কৃষি এলাকা, জমি, জলাশয়, প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা, উন্মুক্ত স্থান এবং ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে পরিকল্পনায় ভূমি বরাদ্দ রয়েছে।
ড্যাপে পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবস্থায় সড়কপথ, জলপথ ও রেলপথকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনায় মহানগরে পাঁচটি বৃহৎ আঞ্চলিক পার্ক, ৪৯টি জলকেন্দ্রিক পার্ক, ৫টি বৃহৎ ইকোপার্ক (ভাওয়াল বনসহ) এবং ৮টি অন্যান্য পার্ক এবং খেলার মাঠের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, জলবায়ুর প্রভাব প্রশমন, নগরের বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার, অস্থায়ী জলাধার, সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের স্থান হিসেবে কাজ করতে পারে এমন এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সিটির নতুন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (ইন্টিগ্রেটেড মাস্টারপ্ল্যান ফর ঢাকা সিটি) প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি এ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে সম্প্রতি ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড ও সাত্বক আর্কিটেক্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ডিএসসিসি।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে এই প্রথম সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়গুলো হলোকেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা প্রতিষ্ঠা করা, নতুন আবাসিক এলাকা (টাউনশিপ) গড়ে তোলা, নদীর পাড় ঘেঁষে প্রশস্ত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খালগুলো সংরক্ষণ ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী নগরীর মহাপরিকল্পনার জন্য করপোরেশন দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এবারই প্রথম করপোরেশন থেকে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি উন্নত ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে এই মহাপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
মেয়র তাপস আরও বলেন, ‘উন্নত দেশের উন্নত রাজধানীর যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা প্রয়োজন বা উপাদান থাকা প্রয়োজন ঢাকাবাসী সেসব সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই লক্ষ্যে এ মহাপরিকল্পনা হবে সেই ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাব এবং উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করেপারেশন) আইন, ২০০৯-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন মাস্টারপ্ল্যান করতে পারে। আমরা সেই আইনেই এটি করতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি করব। কামরাঙ্গীরচর একটি দ্বীপের মতো। পৃথিবীর অনেক দেশে এসব দ্বীপ পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে। কিন্তু এখানে খুব বিচ্ছিন্নভাবে এটি হচ্ছে। তাই আমরা পুরো কামরাঙ্গীচরকে নিয়ে একটি “বাণিজ্যিক কেন্দ্র” করতে চাই। সেখানে সেন্টার ফর বিজনেস ডিস্ট্রিক (সিবিডি) করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
আবাসিক পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি উপশহর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএসসিসির ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে নাসিরাবাদ এলাকায় একটি সম্পূর্ণ “আবাসিক হাব” করা হবে। যানবাহন নিয়েও আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। পুরান ঢাকার কিছু রাস্তা ওয়ানওয়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ করছি। আমরা ভূমি ব্যবহারের বিষয়টি ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
ড্যাপের সঙ্গে কোনো বিষয় সাংঘর্ষিক হলে সে ক্ষেত্রে কী করা হবেএ প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো বিষয়ে সাংঘর্ষিক হলে রাজউকের সঙ্গে সমন্বয় করে তা সমাধান করা হবে। যেমন আমাদের কোনো পরিকল্পনায় যদি বাধা হয় তা রাজউককে চিঠি লিখে তা সমাধান করতে বলা হবে। রাজউক ড্যাপে তা সংশোধন করে নেবে।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। সিটি করপোরেশন কী করছে তা জানতে হবে। না জেনে তো কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’
রাজউকের বক্তব্য : রাজউকের চেয়ার্যমান মো. এ বি এম আমীন উল্লাহ নূরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরকেন্দ্রিক পরিকল্পনাটা তো রাজউকেরই করার কথা। সেই অনুযায়ী তা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দেখানো হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশনকেও স্থানীয় সরকার আইনে কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। সেখানে একটু ভিন্নতাও আছে। তারা (সিটি করপোরেশন) কোথায় খেলার মাঠ, পার্ক হবে ও কমিউনিটি সেন্টার হবে সেই পরিকল্পনা করতেই পারে। ওভারঅল যে প্ল্যান আছে তা রাজউকের থাকবে। ড্যাপের বিষয়গুলো আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। আমরা (রাজউক) পরিকল্পনা করেছি। তারা (সিটি করপোরেশন) সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। এভাবে থাকলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। ড্যাপ যখন চূড়ান্ত করা হয় তখন সিটি করপোরেশনকে দেখানো হয়েছে। তারা পরামর্শ দেবে। সিটি করপোরেশন যেহেতু বাস্তবায়ন করবে তাই তাদের পরামর্শ রাজউক মেনে নেবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ‘ওয়ার্ড পর্যায়ে সিটি করপোরেশন সেই প্ল্যান করতে পারে। কিন্তু তাদের তো ৩০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ মাস্টারপ্ল্যান করার কথা না। ওনারা (সিটি করপোরেশন) এখন আবাসিক বাণিজ্যিক বা শিল্পনগরী করার মাস্টারপ্ল্যান করছে। এটা তো রাজউকের ড্যাপে চিহ্নিত করা আছে। রাজউক এ বিষয়ে অত্যন্ত গভীরে গিয়ে বিশদ পরিকল্পনা করেছে। এখন রাজউক যেখানে আবাসিক এলাকা ঘোষণা করেছে, সিটি করপোরেশন যদি সেখানে বাণিজ্যিক ঘোষণা করে তাহলে ভূমি মালিক কী অনুসরণ করবে? তাই এ বিষয়ে মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের আরেকটু ভেবেচিন্তে আগানো উচিত।’
যা বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা : নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা শহরের জন্য কয়টা মাস্টারপ্ল্যান হয়, এটি একটি প্রশ্ন। প্রথমত, বলতে গেলে মাস্টারপ্ল্যান এখন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের কয়েকটা স্তর আছে। যেমন কাঠামো পরিকল্পনা, এরপর বিশদ পরিকল্পনা, অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান। বিশদ পরিকল্পনায় কোথায় কী হবে এর অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনাসহ বাস্তবায়নের কথাও বলা থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনে এর অধীন সংস্থার কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু রাজউক আইনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এখানে রাজউক এলাকায় ওই সব আইনকে রহিত করে রাজউকের আইনকে সবচেয়ে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখানে সিটি করপোরেশন মাস্টারপ্ল্যান করতে পারে না। সিটি করপোরেশন একটি শতভাগ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তারা কীভাবে হঠাৎ ড্যাপের সমান্তরাল একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মাঠে নামে, এটি সিটি করপোরেশনের কাজের মধ্যেই পড়ে না। মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কোথায় কী হবে তা নিয়ে সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজটি হাতে নিয়েছে তা তাদের করার কথা না। কোথায় শিল্প, কোথায় আবাসিক বা কোথায় বাণিজ্যিক হাব হবে, তা রাজউক থেকে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা আছে। এটি রাজউক বহু বছর আগে থেকে করে আসছে। তারা এ বিষয়ে শুধু প্রান্তিক পর্যায়ে “অ্যাকশন প্ল্যান” করতে পারে। একটি শহরের মূল লাইন তো একটাই হবে।’
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজউক প্রণীত মহাপরিকল্পনাটি ঢাকা ও এর আশপাশে ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভূমি ব্যবহার, আবাসন, পরিবহন, পানি নিষ্কাশন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, সামাজিক ও নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। বিদ্যমান মেট্রো স্টেশনভিত্তিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইট (টিডিআর), ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। অপরিকল্পিত এলাকাকে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক কৌশল হিসেবে ভূমি পুনর্বিন্যাস ও ভূমি পুনঃউন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে স্থান পেয়েছে।
