সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে দেশে ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৮ শতাংশ কম। গত বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার, যা ছিল একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স। মূলত ঈদ-পরবর্তী রেমিট্যান্সে ধীরগতির কারণে টানা তিন মাস পর রেমিট্যান্স কমল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের জুনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৪ কোটি ৮ লাখ ডলার, যা সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসের চেয়ে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরই ঈদের পর রেমিট্যান্সে ধীরগতি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জুনের শেষ থেকেই কোরবানির জন্য স্বজনদের টাকা পাঠাতে শুরু করেন প্রবাসীরা। কোরবানির ঈদের আগে ১৯ দিনে (১ থেকে ১৯ জুলাই) ১৫৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পর মাসের বাকি ১১ দিনে (২০ থেকে ৩১ জুলাই) এসেছে ৩২ কোটি ১৫ লাখ ডলার। ব্যাংক কর্মকর্তারা আশা করছেন, সামনের মাসগুলোয় রেমিট্যান্সে আগের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ২২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪০ কোটি ১২ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৬১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বরাবরের মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২২ কোটি ৯১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার এবং জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে; যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তারও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে।
সম্প্রতি রেমিট্যান্সে প্রবাহ বাড়াতে ছোট অঙ্কের প্রবাসী আয়ে ১ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এটাকে ৩ শতাংশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে।
২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরও ২ টাকা যোগ করে মোট ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এ ছাড়া ঈদ ও উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ দেওয়ার অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।
চিঠিতে বলা হয়, প্রবাসীদের হুন্ডির পথ থেকে নিরুৎসাহিত করতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স ফি মওকুফ করা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩০০র বেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের রেমিট্যান্স আসে। একেক দেশের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ভিন্ন ভিন্ন ফি চার্জ নিয়ে থাকে। এটি সমন্বয় করা কঠিন। তাই প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার কিংবা এর চেয়ে কম রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের প্রচলিত ২ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
