আসনে বসিয়ে রেস্তোরাঁ খুলতে চান মালিকরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০৯ এএম

আগামী ৫ আগস্টের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল রেস্তোরাঁ স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখতে চান মালিকরা। সেটা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে অর্ধেক আসনে বসিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ আবারও চালু করার দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি। তারা বলছেন, চলমান বিধিনিষেধে রেস্তোরাঁগুলো শুধু অনলাইন/টেকওয়ের মাধ্যমে খাবার বিক্রি করতে পারছে। কিন্তু এ সেবার অন্তর্ভুক্ত রেস্তেরাঁর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ শতাংশ। এ কারণে সারা দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকায় দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত রেস্তোরাঁ খাতের সমস্যা তুলে ধরে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, মহামারীতে রেস্তোরাঁ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কখনো অর্ধেক আসনে বসিয়ে, আবার কখনো শুধু অনলাইন বা টেকওয়ের মাধ্যমে আমাদের ব্যবসা সীমিত রেখেছি। কিন্তু টেকওয়ে দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। টেকওয়ে সেবার আওতায় রেস্তোরাঁর সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশ।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, সারা দেশে ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। যারা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে। করোনার প্রভাবে সারা দেশের শতকরা ৮০ ভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংগঠনের মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি বর্তমানে শুধু অনলাইন ডেলিভারির সুযোগ দিয়ে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ঘোষণাটি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’। এখানে বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে। যারা এখন খাবার টেকওয়ের ব্যবসাতে জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সেগুলো হলোÑ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা। তাও যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ আসনে বসিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু করা। হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য চলতি মূলধন হিসেবে এসএমই খাত থেকে এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা, যা সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে জামানতবিহীন এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক-শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদান করা। শ্রমিকদের মোবাইলে অথবা নির্দিষ্ট কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নগদ অর্থ অথবা মাসিকভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া। হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা প্রদান করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা। এ ছাড়া ই-কমার্স টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন করা ও একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নপূর্বক তাদের নিয়ন্ত্রণ করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত