জনপ্রিয় মডেল ও নবাগত চিত্রনায়িকা জাহারা মিতুর হাতে রয়েছে বেশ কিছু সিনেমা। করোনার কারণে কাজগুলো থমকে গেলেও অপেক্ষা করছেন স্বাভাবিক সময়ের জন্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তিনি পুরোদমে কাজ শুরু করে দেবেন। তার অসমাপ্ত কাজগুলোর একটি হচ্ছে শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘কমান্ডো’। এই সিনেমায় মিতুর নায়ক ওপার বাংলার সুপারস্টার দেব। সম্প্রতি দেশ রূপান্তরের লাইভ আড্ডায় এসে দেবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন মিতু। জানিয়েছেন ব্যক্তি দেব সম্পর্কেও।
প্রথমে ‘কমান্ডো’ সিনেমা নিয়ে মিতু বলেন, ‘কমান্ডো হচ্ছে আমার এমন একটা ছবি যেটার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। প্রযোজনা সংস্থার ইচ্ছে ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তি দেবেন। কিন্তু পারেননি। দেবও চাচ্ছেন কমান্ডোর কাজটা দ্রুত শেষ হোক। কিন্তু করোনার কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।’
দেবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেবের সঙ্গে কাজ করছি এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। যদিও নায়িকা হবো সেটাই কখনো ভাবিনি। যা ঘটছে তা সব স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে।’
ব্যক্তি দেব কেমন জানতে চাইলে মিতু বলেন, ‘আমি যেমন বাচ্চা, তেমনি দেবও বাচ্চা মানুষের মতো-কিছু কিছু জায়গায়। আর কিছু কিছু জায়গায় দেবের চেয়ে বিচক্ষণ মানুষ আর নেই। আপনি যখন তার আশেপাশে থাকবেন তখন কোনোভাবেই আপনি স্যাড থাকতে পারবেন না। তার আশেপাশে থাকলে সব সময় হাসিখুশি থাকবেন জলি মাইন্ডের থাকবেন। কারণ সে সব সময় আপনাকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করবে। আমার মনে হয়েছে দেব প্রচণ্ড রকমের একজন পজিটিভ মাইন্ডের লোক, আমিও খুব পজিটিভিতে বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়েছে আমার সঙ্গে দেবের এই জায়গাটায় মিল রয়েছে। প্রতিটা জিনিসের সমাধান সে করতে জানে ইনস্ট্যান্ট। কোনো একটা সমস্যা হলে সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে সেটা সে ভাবতে জানে। এটা একটা স্টারের অনেক বড় একটা গুণ। অনেকে কপাল গুণে সুপারস্টার হয়ে যায় কিন্তু একজন সেলফ মেইড স্টারের নিজেকে ওই জায়গাটায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যে পরিশ্রম, যে বিচক্ষণতা থাকে- সেই জিনিসটা আমি দেবের মধ্যে দেখেছি। হি ইজ অ্যা সেলফ মেইড সুপারস্টার।’
দেবের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মিতু আরও বলেন, ‘দেবের সঙ্গে আমার কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে আমি কখনো যে মন খারাপ করে তার পাশে বসে থাকব, সেটা সম্ভব না। শুধু কো আর্টিস্ট না- একজন স্পট বয়ও মন খারাপ করে থাকতে পারবে না। যতক্ষণ দেব থাকবে সেটে ততক্ষণ সেটের প্রত্যেকটা মানুষের মুখে হাসিখুশি থাকবে। এটা হলো তার গুন। আর তার টাইম সেন্স খুবই ভালো। সে কখনো দেরি করত না। পাঁচটায় আসার কথা মানে পাঁচটাতেই আসত। পারলে আগে আসতো কখনো পরে আসতো না। তার এই টাইমিং সেন্স আমি আর কোনো স্টারের মধ্যে দেখি নাই। তারপরও সে একজন এমপি। একটা দেশের একজন এমপি হওয়া মুখের কোনো কথা নয়। সবকিছু মিলিয়ে দেব একজন ফ্যান্টাস্টিক পারসন।’
