কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ কিছুটা কমেছে। বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। যা এর আগের প্রান্তিকে বিতরণ করা ঋণের তুলনায় ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা বা ৯.২৫ শতাংশ কম। ২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সিএমএসএমই খাতে ৪৮ হাজার ৯৮১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো।
এর আগের ত্রৈমাসিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২০ সময়ে ৩৮ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা এমএমই ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এসএমই ঋণ বিতরণ হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। তবে ইতিপূর্বে বিতরণ করা সব ঋণ মিলিয়ে এসএমই ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ২ লাখ ৪০ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা।
২ লাখ ২৮ হাজার ৩২৭টি গ্রাহকের অনুকূলে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়।
২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সিএমএসএমই খাতে ঋণ বিতরণ কমলেও গত বছরের একই প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২০) তুলনায় ঋণ বিতরণ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বা ১৭.৬৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সিএমএসএমই খাতে ৩৭ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৬ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। পল্লী এলাকার এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেওয়া হয় ৮ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার ঋণ। জামানতবিহীন ঋণ ছিল ৬ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা।
এর মধ্যে কুটির (কটেজ) প্রতিষ্ঠানে ৫৩০ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। মাইক্রো খাতের প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র শিল্পে ২৮ হাজার ৩২ কোটি টাকা এবং মাঝারি শিল্প খাতে ১০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো।
বিতরণ করা এসব ঋণের মধ্যে প্রস্তুতকারক শিল্পে গেছে ১৫ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ঋণ। সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানে গেছে ৯ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা এবং ব্যবসা উপ-খাতের প্রতিষ্ঠানে ১৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।
তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সিএমএসএমই খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ২৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ৩ হাজার ১৮ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংক বিতরণ করে ৯২০ কোটি টাকা। ইসলামিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করে ১৩ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ব্যাংকিং খাত থেকে সিএসমএসএমই খাতে ঋণ যায় ৪২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এছাড়া লিজিং প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করে ১ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।
নিয়মিত এসএমই ঋণের পাশাপাশি কভিড-১৯ এর প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্যাকেজ থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয় সিএমএসএমই খাতে। গত জুলাই থেকে প্রণোদনার দ্বিতীয় মেয়াদের ঋণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। তবে এর মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার, বাকিটা গ্রাহক পরিশোধ করবে।
