৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে দৌড়কে এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তিই বলা হতো। ১৯২০ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত টানা ১৩ অলিম্পিকে এই রিলে রেস জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টাররা। ১৯৮০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত পরের ৬ অলিম্পিকেও তিনবার এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০০০’র ওই সিডনি গেমসের পর থেকে রিলে রেসে কোনো সাফল্যই পাচ্ছে না তারা। টোকিও অলিম্পিকে আবার এই রাজত্ব পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ছিল আমেরিকানদের। কিন্তু হিটেই বাদ পড়ে চূড়ান্ত লজ্জায় পড়েছেন দেশটির অ্যাথলেটরা।
যুক্তরাষ্ট্রের রিলে দলে ছিলেন দুই ১০০ মিটার ফাইনালিস্ট ফ্রেড কারলে ও রনি বেকার। এ ছাড়া ১০০ মিটারে সময়ের অন্যতম সেরা দৌড়বিদ ট্রেভর ব্রোমেল। একমাত্র ক্রেভন গিলেস্পির দলে থাকা নিয়েই প্রশ্ন ছিল। কেনি বেডনারেক, নোয়াহ লেলিসের বদলে তাকে নামানোটা ভালো চোখে দেখেননি সমালোচকরা। এই গিলেস্পিই রিলের শেষ রাউন্ডে একদম হতাশ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চার অ্যাথলেটেরই ব্যাটন বদল ছিল খুবই নিম্নমানের। সেখানেও পিছিয়ে পড়েছেন তার। তাই দ্বিতীয় হিটে সাত দলের মধ্যে ষষ্ঠ হয়ে শেষ করতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে। এমন লজ্জাজনক হার কিছুতেই মানতে পারছেন না খোদ দেশটির দৌড়বিদরাই। এত উন্নত প্রস্তুতি ও অনুশীলনের পরও চারজনের মিলে এমন ফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপ্রত্যাশিত। প্রথম হিটে স্প্রিন্ট রিলের রিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকা দল দৌড় শেষ করে ৩৭.৮২ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় ব্রিটেন ৩৮.০২ সেকেন্ডে আর জাপান শেষ করে ৩৮.১৬ সেকেন্ডে। দ্বিতীয় হিটে সবাইকে অবাক করে দিয়ে চীন ৩৭.৯২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথম হয়। সঙ্গে কানাডা, ইতালি, জার্মানি ও ঘানা হিট থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। আর সবার চেয়ে পিছিয়ে ৩৮.১০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে যুক্তরাষ্ট্র।
টানা ১৮ অলিম্পিকের ১৫টিতেই জেতা যুক্তরাষ্ট্র ২০০৪-এ গ্রেট ব্রিটেনের পেছনে ছিল। ২০০৮-এ ব্যাটনই ফেলে ডিসকোয়ালিফাই হয়। ২০১২-তে টাইসন গে’র ডোপ কেলেঙ্কারিতে তাদের রুপা কেড়ে নেওয়া হয়। আর গতবার ব্যাটন ফেলে আবার ডিসকোয়ালিফাই হয় যুক্তরাষ্ট্র। হিটে হেরে রাগে ফুঁসতে থাকা ব্রোমেল বলেন, ‘কিছু বলার ভাষা নেই আমার। আমি একদম পাগল হয়ে আছি। না, সতীর্থদের ওপর না। ওরা যা পেরেছে করেছে। আমি রেগে আছি আমার ওপর। আমি কী করলাম। প্রথম রেসটাতে আমি দলকে অনেক এগিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু আমি ব্যর্থ।’
