পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মানচার হ্রদের ওপর শুধু হাউজবোট নিয়ে মোহানা জেলে সম্প্রদায়ের ভাসমান গ্রাম। কয়েক প্রজন্ম ধরে মোহানারা নৌকার ওপর বাসা বেঁধে থাকেন। কিন্তু মানচার হ্রদের ইকোসিস্টেমের অবনতির ফলে জেলেদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বেড়ে চলেছে। যে মাছ ধরে তাদের জীবন চলে সেই মাছই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে পানি থেকে! নৌকার এই গ্রামে মৌলিক পরিষেবারও অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে ভাসমান এই গ্রাম পড়েছে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে।
ভাসমান গ্রামের বাসিন্দা হুসনা মাই বলেন, ‘এখানেই আমার জন্ম, এখানেই বিয়ে হয়েছে। আমার সন্তানরাও এখানে বড় হয়েছে। আমার আট সন্তান। আমার স্বামী বধির, তাই আমি তার সঙ্গে মাছ ধরতে যাই। এক কিলো মাছ পেলে বিক্রি করে সন্তানদের জন্য রুটি কিনি। কিন্তু এখন মাছও কমেছে এখানে। এখানে টিকে থাকা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের।’
এককালে মানচার হ্রদ জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। মানুষ, মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখি মিলেমিশে সেখানে বাস করত। কিন্তু গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও শিল্পক্ষেত্রের বর্জ্য হ্রদের পানি দূষিত করে তোলে।
এমন দূষণের পরিণতি হিসেবে মাছের সংখ্যাও কমে গেল। ফলে বাধ্য হয়ে মোহানাদের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে হলো। মাছ ব্যবসায়ী গুলাম আকবর বলেন, ‘পানি দূষিত হওয়ার আগে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ হাজার কেজি মাছ ধরা হতো। এখন সেই পরিমাণ কমে ১ হাজার ৫০০ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
সিন্ধু নদীর পশ্চিমে প্রায় ২০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মানচার লেক অবস্থিত। সম্ভবত মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সময় থেকেই সেই হ্রদে হাউজেবোটে বসবাসের ঐতিহ্য চলে আসছে।
মিরবক্স মাল্লাহ মানচার হ্রদ সংরক্ষণের উদ্যোগে জড়িত। তার মতে, মানচার হ্রদের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা আগে যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু মানচার হ্রদের দূষণের কারণে হাউজবোটে বসতির সংস্কৃতি ধারাবাহিকভাবে কমে চলেছে।
তিনি বলেন, মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে প্রাকৃতিক মিষ্টিপানির হ্রদের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। হ্রদের ইকোসিস্টেমে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তা না করলে এই ভাসমান গ্রামগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শুধু কাহিনী হিসেবেই বেঁচে থাকবে।
