ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। দুই উপজেলাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করেছে ত্রিশালের বৈরল মোড় হতে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কটি।
শুধু দুই উপজেলার সংযোগ সড়ক হিসেবেই নয় ব্যবসা প্রসারের দিক দিয়েও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে সড়কটি দিয়ে। এছাড়া সড়কটির আশপাশে মাছের ও মুরগির অন্তত দেড় শতাধিক খামার রয়েছে।
কিন্তু সড়কটির বেশিরভাগ অংশই ভাঙাচোরা। সড়কটির ৬ কিলোমিটার জুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার সড়কটি জলাশয় না রাস্তা তা বুঝার উপায় থাকে না। ফলে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বর্ষায় হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। সড়কে চলাচলকারী দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হলে ২০১৮ সালে সড়কটি পুনঃনির্মাণে টেন্ডার হয়। কিন্তু তিন দফা সময় বাড়িয়ে গত তিন বছরেও শেষ হয়নি সড়কটির সংস্কার কাজ।
এদিকে দুর্ভোগ বেড়ে চলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ কর্তৃপক্ষের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও যাত্রীরা।
২০১৮ সালে ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের পুনঃনির্মাণের কাজটি পায় মেসার্স ঢালি কনস্ট্রাকশন। ওই বছরের ২৬ জুন থেকে ২০১৯ সালের ১৩ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের অপারগতায় পরপর তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময় শেষ হবে চলতি বছরের আগস্টে।
কিন্তু গত তিন বছরে সড়কটির কয়েক কিলোমিটার অংশে সুরকি ফেলে শুধুমাত্র রোলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখনো অনেক স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণ বাকি। সুরকি ফেলা হয়নি এমন আড়াই কিলোমিটার সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ।
এলাকার বাসিন্দা শহিদুল কাওসার সুমন বলেন, তিনি ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করেন। সড়কটির পার্শ্ববর্তী হাপানিয়া গ্রামে তার মাছের খামার ছিল। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন শহর থেকে খামারে গিয়ে দেখাশোনা সম্ভব নয়। ফলে মাছের খামারটি ভাড়া দিয়েছেন।
স্থানীয় আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের উন্নয়নকাজ চলায় বৃষ্টি হলে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরে থাক হেঁটে চলাচল করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
ধানীখোলা এলাকার হাফিজুল ইসলাম বলেন, শুকনো মৌসুমে খানাখন্দে ভরা সড়কটি দিয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। বর্ষা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে সড়কটি। তখন ওই সড়কে চলাচল করতে হয় হেঁটে।
স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় ঠিকাদারের অপারগতায় পরপর তিন দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
তবে সবশেষ বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সড়কটির কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করা হবে। সড়কটির সংস্কার হলে স্থানীয়দের ভোগান্তির দীর্ঘস্থায়ী অবসান হবে।
