দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চলটিতে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে মৃত্যু বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত। চট্টগ্রাম ছাড়া বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৬৯, রাজশাহীতে ১৬, খুলনায় ৩৬, বরিশালে ২০, সিলেটে ১৬, রংপুরে আট এবং ময়মনসিংহে আটজন মারা গেছেন। এর আগে ঢাকা বিভাগের চাইতে চট্টগ্রামে কখনো বেশি মৃত্যুর রেকর্ড নেই।
দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত
বরিশাল বিভাগে আরও ২৮ জনের মৃত্যু : বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনায় ১৪ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে ১ হাজার ৯২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬২৪ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গতকাল শুক্রবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এটা এই বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর মধ্যে করোনায় ১৫ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ৮৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। রাজশাহীতে আরও ১৫ জনের মৃত্যু : রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৬৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নুমনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গতকাল শুক্রবার রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ১৫ জন মারা গেছেন। আগের দিন মারা গিয়েছিলেন ১৫ জন। নতুন মৃতদের মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১১ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ ও নাটোর ২ জন করে করোনায় মারা গেছেন। এ নিয়ে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৯৯ জন।
বিভাগে আট জেলায় সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বগুড়ার সর্বোচ্চ ৫৯০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী জেলায়। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৩ জন, নওগাঁয় ১২৩ জন, নাটোরে ১২৯ জন, সিরাজগঞ্জে ৭৫ জন, জয়পুরহাটে ৫২ জন ও পাবনায় ৩৪ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর বিভাগে আরও ৮ মৃত্যু : রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেল। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। শুক্রবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে দিনাজপুর জেলার সর্বোচ্চ ৪ জন, রংপুরের ৩ ও ঠাকুরগাঁওয়ের ১ জন আছেন। এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৪।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মোতাহারুল ইসলাম জানান, নতুন ৮ জন নিয়ে বিভাগে করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪। এর মধ্যে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ২৮৬ জন, রংপুরের ২২৬, ঠাকুরগাঁওয়ের ১৯৪ জন, পঞ্চগড়ের ৬৩, নীলফামারীর ৭১, লালমনিরহাটের ৫৭, কুড়িগ্রামের ৫৬ ও গাইবান্ধার ৫১ জন করোনায় মারা গেছেন।
সিলেটে ১৬ জনের মৃত্যু : সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিলেটের ১৩ জন, হবিগঞ্জের ২ জন ও মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে ৭৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয়েছে ৭৫৮ জনের। শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর আগে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৯৬ জনের করোনা শনাক্তের রেকর্ড করা হয়েছিল। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেট বিভাগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৭৩। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন সিলেট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৫ জন, হবিগঞ্জে ৪৮ জন ও মৌলভীবাজারে ২৭ জন।
খুলনা বিভাগে ৩৬ জনের মৃত্যু : খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৭৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৯৮ হাজার ছাড়াল। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ২৩ শতাংশের বেশি।
গতকাল শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিভাগে করোনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৮১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। আগের দিনের চেয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। এ সময় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শনাক্তের হার ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট মেশিন এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেন এই তিন প্রক্রিয়ায় মোট ৩ হাজার ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ২১টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশ। কুষ্টিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার বাসা ও হাসপাতাল মিলিয়ে বিভাগের ১০ জেলায় করোনা রোগী রয়েছেন ১৯ হাজার ৫১০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১ হাজার ২৬২ জন। অন্যরা বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।
