কুমিল্লায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন শহরের চেয়ে গ্রামেই বেশি। প্রতিদিনই গ্রামে গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষই বেশি আসছে। হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে আইসিইউ এবং শয্যা সংকট। ভর্তি হতে না পেরে রোগীকে মৃত অথবা মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে বাড়ি। এই নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে খোদ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতিনিয়ত এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও থাকবে না বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
গত এক সপ্তাহে জেলায় ৬ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর মারা গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে বাস্তবে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) ও সদর জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতালেও এখন করোনার পৃথক ইউনিট গঠন করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আশংকার কথা হচ্ছে সরকারি এবং প্রাইভেটসহ কোনো হাসপাতালেই তিলধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে কুমেক এবং সদর জেনারেল হাসপাতালে শয্যা এবং আইসিইউর জন্য হাহাকার করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। করোনা ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন না করা হলে সংক্রমণ এবং মৃতের সংখ্যা হ্রাস পাবে না বলে অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
কুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে গিয়ে দেখা যায় শহরের নয়, গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আক্রান্ত রোগীরা শয্যার জন্য অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে শয্যা না পেয়ে এ হাসপাতালের সামনেই অবস্থান করছেন। কুমেক এবং জেনারেল হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ রোগীই করোনা উপসর্গ নিয়ে আসছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, দিন দিন পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে, প্রতিনিয়তই রোগীর চাপ বাড়ছে, শয্যা না থাকায় অনেক রোগী ফিরে যাচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি রোগীদেরকে সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে, কিন্তু রোগীর সংখ্যা অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ থাকলেও রোগীরা করোনা পরীক্ষা না করে ঘরে বসে থাকছে, এতে অবস্থার অবনতি ঘটছে, শেষ পর্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় এসে হাসপাতালে ভিড় করছে। অসচেতনতার কারণেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী, বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত, এ মুহূর্তে শয্যা বাড়ানো ও অক্সিজেন সংকট যেন না হয় সেদিকেই নজর বেশি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শহর থেকে গ্রামে এখন সংক্রমণের হার অনেক বেশি। গ্রামের মানুষ সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
