ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় চয়নিকা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০১:৫৯ এএম

বাংলা সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর পান্থপথ সিগন্যাল থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে  নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা ১০ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আটক করেছেন ডিবি সদস্যরা। পরে রাতে ঢাকা মহানগর ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ বলেন, জিমিকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মাদক পাওয়া যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে।

চয়নিকা চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়ার আগে ডিবি কর্মকর্তা হারুন সাংবাদিকদের বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। এখন তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন ডাকা হবে, তিনি আসবেন।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একটি অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে পান্থপথ সিগন্যালে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়ি ঘিরে ধরেন ডিবি সদস্যরা। সেখান থেকে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চয়নিকা চৌধুরী দিনভর ডিবির নজরদারিতে ছিলেন। সন্ধ্যায় বেসরকারি একটি টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় পান্থপথ সিগন্যাল থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে।’

নির্মাতা চয়নিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া চিত্রনায়িকা পরীমণি, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌসহ বেশ কয়েকজনকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডিজে পার্টি এবং মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চয়নিকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনেতার প্রেম করিয়ে দেওয়া, বিচ্ছেদে সহযোগিতা, মাদক সরবরাহসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

চয়নিকা চৌধুরী ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের মধ্য দিয়ে পরিচালনা শুরু করেন। ‘বিশ^সুন্দরী’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এ কাজের সুবাদে পরীমণির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে দেখা গেছে তাদের। চয়নিকাকে ‘মা’ বলে ডাকেন পরীমণি। চয়নিকা নিজেও পরীমণিকে মেয়ের মতো দেখেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। সবশেষ ‘বোট ক্লাবের’ ঘটনার পর পরীমণির পাশে ছায়ার মতো দেখা গেছে চয়নিকা চৌধুরীকে। গত বুধবার র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন পরীমণি। চার ঘণ্টা ধরে তার বাসায় চালানো অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, এলএসডি, আইস ও বিভিন্ন প্রকার মাদক পাওয়ার তথ্য জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। আটকের আগে ফেইসবুক লাইভে এসে পরিচিত সবার সাহায্য চান পরী। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি তার ‘মা’খ্যাত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও ওই দিন আসেননি। এমনকি পরীমণি আটকের পর নিশ্চুপ থাকলেও গতকাল মুখ খোলেন তিনি। চয়নিকা একটি টেলিভিশন স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এবারের ঘটনার সময় আমি ফেইসবুকে ছিলাম না। সন্ধ্যার দিকে সুবর্ণা আপা ফোন করার পর জানতে পারি। তখন ৬টার বেশি বাজে। সঙ্গে সঙ্গে ফেইসবুকে ঢুকে দেখলাম। কিন্তু কী করব বুঝতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে লাইভও বন্ধ হয়ে গেছে। র‌্যাব সদস্যরা ঢুকেছেন ওর বাসায়। তখন আমি ছুটে যেতে পারতাম, কিন্তু বাসায় ঢুকতে পারতাম না। এখানে আমার আসলে কিছু করার ছিল না।’ পরীমণির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরীমণির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গে কাজভিত্তিক আলোচনা হয়। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পরীমণির সঙ্গে কোনো দিনই আলাপ করিনি। আর আমিও তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাইনি, জানতেও চাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত