সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে কিছু রান কম হয়েছিল। কিংবা সাকিব আল হাসানের ৩০ রানের ওভারটি না হলে ১০৫ এর লক্ষ্য ছুড়েও জেতা অসম্ভব ছিল না। তা না হওয়ায় অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ হাত ফসকে যায়। সেই আক্ষেপ ভুলে আজ সিরিজের শেষটিতে আবারও জয়ের টার্গেট টাইগারদের। মিরপুরের ধীর ও নিচু উইকেটে আরেকবার অজিদের হতবুদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশকে এনে দেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়। যা হবে ১০ বছর আগে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর প্রথম। টি-২০তে এর আগে সবচেয়ে বেশি ৪ ম্যাচের একটি সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ঘরের মাঠের সেই সিরিজ ২-২এ ড্র হয়। এছাড়া আয়ারল্যান্ডকে একবার ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল।
উইকেটের চরিত্র যে আজ বদলাবে তা বলা যাচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সুবিধা নিতে ব্যাটিং উইকেট গড়ার পথে হাঁটবে না বাংলাদেশ। তাই এ সিরিজে অন্যরকম রেকর্ড হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। টেস্ট খেলুড়ে দুই দেশের ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ডটি হতে যাচ্ছে আজ। এই সিরিজে চার ম্যাচে ওভারপ্রতি রান এসেছে মাত্র ৫.৯৩ করে। দুই দল মিলে এখন পর্যন্ত ৯৩৬ রান তুলেছে। এর আগের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড ১ হাজার ৫৯৪। চলতি সিরিজ থেকে যা এখনো ৬৫৮ রান দূরে। এ বছর শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও উইন্ডিজ সিরিজে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ৫ ম্যাচের সিরিজে সবচেয়ে কম রানের রেকর্ডটি হয়েছিল। মিরপুরের সিরিজটি নিশ্চিতভাবেই আগেরটিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
রান কম হলেও ক্ষতি নেই। এই উইকেট ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আদর্শ প্রস্তুতিও না। তবুও অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ এ হারানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করার নয়। সব পাওয়ার এই সিরিজে অবশ্য একটা অপূর্ণতা আছে বাংলাদেশের। তা হলো ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ১২৬ রান করে সিরিজ সেরা হওয়া সৌম্য একদম হারিয়ে গেছেন। টানা চার ম্যাচে একই একাদশে খেলা বাংলাদেশের এই একটি জায়গাতেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। যদিও একাদশে ওপেনার না থাকায় চাইলে টিম ম্যানেজমেন্ট উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসতে পারে।
হোঁচট খেয়ে শেখার পাঠ অস্ট্রেলিয়া ভালোই রপ্ত করেছে। টানা তিন ম্যাচে জয়ের পথ খুঁজে ফেরা সফরকারীরা চতুর্থ ম্যাচে এসে গন্তব্যের দেখা পায়। সেই পথে তাদের আলোও স্পিন। তিন স্পিনার খেলিয়ে সফল পাওয়া দলটি এখন আফসোস করছে আরও আগেই এই পরিকল্পনা না নেওয়ার। পুরো সিরিজে তিন স্পিনার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ানরা চতুর্থ ম্যাচে তিন স্পিনার খেলায়। তাতে সুফল পেয়ে আজও তিন স্পিনার খেলার স্বীকারোক্তি ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আসা অজি স্পিনার মিচেল সোয়েপসনের, ‘সত্যি স্পিনার দিয়ে বেশি বল করানোর পরিকল্পনাটা শেষ ম্যাচে কাজে দিয়েছে। অ্যাস্টন টার্নারও ৪ ওভার বল করেছেন। এর মানে আমরা দুজন স্পিনারসহ মোট ১২ ওভার স্পিন করেছি। এবং স্বীকার করতে বাধা নেই যে এটাই আমাদের পক্ষে কাজ করেছে। আমরা এই পরিকল্পনাটা একটু দেরিতেই করে ফেলেছি কিন্তু একেক ম্যাচে তো একেক রকম পরিস্থিতি দাঁড়ায়। শেষ ম্যাচের পরিস্থিতিটা আমাদের পক্ষে গেছে এবং হতে পারে আমরা সামনেও এই পথেই হাঁটব।’
শুধু স্পিন নয় বাংলাদেশকে আটকানোর আরেকটি পথ বের করেছে অস্ট্রেলিয়া। সোয়েপসনই সেই টোটকা। অজিরা বুঝেছেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা গুগলিতে দুর্বল। গত ম্যাচে ৩ উইকেটের দুটি গুগলি মেরেই নিয়েছেন সোয়েপসন। তাই শেষ ম্যাচে গুগলির ব্যবহার আরও থাকবে বলেও জানালেন এই অজি স্পিনার।
বাংলাদেশ অবশ্য এত কিছু ভাবছে না। পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য সাকিব, নাসুম ও মাহেদী আছেন। তবে স্পিন নয় দলীয় শক্তিকেই বড় করে দেখছেন শরিফুল ইসলাম। জানালেন এই মুহূর্তে টিম স্পিরিটটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আরেকবার সহজেই হারানোর স্বপ্নও দেখছেন শরিফুল। তাছাড়া দলের সবাই দায়িত্ব নিয়ে পারফরম করছেন বলে ম্যাচ জয়ের কাজও সহজ হচ্ছে। শরিফুল বলেন, ‘দেখেন আমাদের এখন যে দল, সবাই পারফরম করছে। সবাই সবার ওপর ভরসা রাখছে, একজনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছে না। এই জিনিসটা খুব ভালো লাগে, কেউ কারও ওপর ভরসা করছে না। সবাই নিজের ওপর ভরসা করছে। একজন আউট হলে অপরজন ধরছে। তো এ জিনিসটা যতদিন থাকবে তখন জয় পাওয়াটাও সহজ হবে। কারণ সবাই যদি সবার দিক থেকে ইতিবাচক চিন্তা রাখে যে আমি সুযোগ পেলে আমি সেরাটা দিয়েই দলকে জিতিয়ে আনব। তো এভাবে যখন ভাবতে থাকবে এবং একজনের ওপর ভরসা না করবে তখন আমাদের জন্য খেলাটা আরও সহজ হবে।’
