করোনার টিকা নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “আমরা বলেছি অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট বানিয়েছে সেই টিকা নেব না। কারণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলেছে ওই টিকা ট্রায়াল বেসিসে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তারা আমাদের গিনিপিগের মতো ব্যবহার করা হবে।”
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগর বিএনপির কভিড-১৯ হেল্প সেন্টার থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
গত মার্চে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন রিজভী। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমাকে অনেক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছেন- আপনি টিকা নেবেন কিনা? আমি বলেছি ন্যায়সংগতভাবে আমি যে টিকার বিরোধিতা করেছি, বাঁচি আর মরি ওই টিকা আমার শরীরে প্রবেশ করতে দেব না।”
এরপর ১৬ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন রিজভী। পরদিন তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ দুই মাস হাসপাতালে থাকার পর তিনি বাসায় ফেরেন। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
গত ২৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেন রিজভী। তবে সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড নয়, নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা।
রিজভী টিকা নেওয়ার পর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “লজ্জা শরম ভেঙে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে টিকা নিচ্ছেন।”
তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে যে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা নিশিরাতের ভোট করে কানেও কম শোনেন, চোখেও কম দেখেন। না হলে কে কী বক্তব্য রাখছেন সেটা ভালো করে তারা শোনেন না। টিকা না নেওয়ার বিষয়ে মার্চের দিকে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম সেটা তথ্যমন্ত্রী ভালোভাবে শুনেননি। সে জন্য উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। আমি এখন যে টিকা নিয়েছি সেটা মডার্নার টিকা।”
গণ টিকা দেখে বিএনপি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েছে— হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপির কোনো নেতা জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে গেছেন এটা কি দেখাতে পারবেন? বরং আপনারা গণ টিকার নামে যে অব্যবস্থাপনা তৈরি করেছেন, হাজারো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা পাচ্ছেন না। আগে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারা এসএমএস পাচ্ছেন না। এসব আড়াল করতেই বিরোধী দলকে টার্গেট করছেন।”
রিজভী বলেন, “প্রকৃতপক্ষে মানুষকে টিকা দিতে না পেরে বিরোধী দলকে দোষারোপ করে সরকার পার পেতে চাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম ঢাকতেই হাছান মাহমুদরা এ সব কথা বলছেন। তাদের কথার মধ্যে দিয়েই এটা প্রমাণিত হয়। দেশব্যাপী গণ টিকার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা তারা পারেননি। তারা আমলা নির্ভর হয়ে পড়েছেন। সে জন্য করোনার সহযোগিতা দরিদ্র জনগোষ্ঠী পাচ্ছেন না।”
গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মো. সোহরাব উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শওকত হোসেন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হান্নান মিয়া হানু, আব্দুস সালাম, জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সরকার জাভেদ আহমদ সুমন, রাশেদুল ইসলাম কিরণ, সদস্য মো. আব্দুর রহিম খান, মো. রবিউল আলম, সাজ্জাদুর রহমান, শাহাদাত হোসেন শাহিন, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, আব্দুর রহিম মাতবর প্রমুখ।
