৮০ দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা সম্প্রতি আবারও আলোচনায়। রোজিনার একটি পুরনো চিঠিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই অলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তার নামে একটি চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রায় তিন দশক আগে তৎকালীন সাপ্তাহিক আনন্দ বিচিত্রা পত্রিকায় তার একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত একটা সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক কবি শামসুর রাহমান বরাবর চিঠি লিখেছিলেন রোজিনা। মার্জিত ভাষায় লেখা সেই চিঠিটি এখন ভাইরাল হয়েছে। পুরনো সেই চিঠির ব্যাপারে জানতে চাইলে রোজিনা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠিটি এখনো দেখি নাই। তবে আপনিসহ দুয়েকজনের কাছে শুনেছি, আমার নামে একটা চিঠি ভাইরাল হয়েছে। কে বা কারা এটা করেছে সেটা জানি না। সবাই যা বলছে, তাতে এটা অনেক পুরনো একটা ঘটনা। আমার জানা মতে, আমি কোনো পত্রিকা বরাবর কোনো চিঠি লিখি নাই। সেই সময়ে আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট, সেক্রেটারি বা কোনো ভক্ত শুভাকাক্সক্ষী এমন কোনো চিঠি লিখেছিল কিনা সেটাও আমার মনে নেই।’ একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত খবরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে রোজিনা বলেন, ‘আমি সিনেমা ছেড়েছি সেই ১৯৯৩ সালে। তখন আমি ক্যারিয়ারের তুঙ্গে অবস্থান করছিলাম। আমি বলব আমার স্বর্ণ সময়েই আমি সিনেমা ছেড়েছি। আর ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আমার নামে প্রচুর গুজব, গুঞ্জন এগুলো হরহামেশাই পত্রিকাগুলো ছাপত। সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করতাম। আমার একাধিক বিয়ের গুঞ্জন যেমন প্রকাশ হয়েছে তেমনি আমার একাধিক সন্তানের খবরও প্রকাশ করেছে অনেক পত্রিকা। এমনকি আমার আড়াই/তিন মাসের ছোট্ট ভাইকেও সেই সময়ে আমার সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গুঞ্জন বেরিয়েছিল পত্রিকার পাতায়। তো এসব নিয়ে তো মাথা ঘামাইনি কখনো। চিঠি লেখার তো প্রশ্নই ওঠে না।’ রোজিনা জানালেন, ঘরে বসেই তিনি লকডাউনের সময়টা কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পারিবারিক কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটাই। আমার দুটো পোষা কুকুর আছে, যদিও ওদেরকে কুকুর বলে ডাকি না। সেগুলোরও দেখভাল করি। সব মিলিয়ে ভালোই সময় কাটছে।’ নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘ফিরে দেখা’র আপডেট জানিয়ে রোজিনা বলেন, ‘আমার অনুদানের আউটডোর শুটিং শেষ করেছি। ডাবিংসহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু কাজের অংশবিশেষ বাকি আছে। লকডাউন শেষ হলেই আমার সিনেমার কাজটা শেষ করব।’ প্রায় ১৪ বছর পর নিজের সিনেমার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর বিষয়ে রোজিনা বলেন, ‘১৪ বছর ক্যামেরার সামনে না দাঁড়ানোর অন্য কোনো কারণ নেই। এর আগেও ১১ বছর পর ২০০৫ সালের দিকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। আর দীর্ঘদিন ক্যামেরার সামনে না দাঁড়ানোর বিষয়ে বলব, চলচ্চিত্রের জন্যই আজ আমি রোজিনা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোটা সব সময় আমি এনজয় করি। কিন্তু যেটা বলব, আমাদের মতো সিনিয়রদের জন্য যে ধরনের গল্প দরকার তেমনটা পাই না। আমরা তো এখন আর শুধু শুধু কাজ করার জন্য দাঁড়াতে পারি না, নিজেদের সম্মানের বিষয়টাও দেখতে হবে। চলচ্চিত্রের গল্পে যদি নিজের সম্মান বজায় রেখে কাজ করার চরিত্র পাই তাহলে করব। দুয়েকটি সিনেমায় ভাবির চরিত্রে হাজির হয়ে তো লাভ নেই। আমি ওই ধরনের চরিত্র করবই না। প্রোপার সম্মান দিয়ে ভালো গল্পে যদি আমাকে কাস্ট করা হয় তাহলে অবশ্যই করব।’
পরীমণি ইস্যুতে শিল্পী সমিতি তার সদস্যপদ স্থগিত করেছে। এটা নিয়ে সমালোচনা চলছে। ওই মিটিংয়ে রোজিনাও উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে রোজিনা বলেন, ‘শিল্পীর পাশে অবশ্যই আমরা শিল্পীরা দাঁড়াব। তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তাকে বরখাস্ত করা হয় নাই। তার দোষ প্রমাণিত না হলে তো তার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হবেই।’ নেতিবাচক সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ খারাপ কাজ করে তাহলে সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়। যদিও তার দোষ প্রমাণিত নয়। তবে আমি মনে করি একজন সেলিব্রেটিকে অবশ্যই সংযত আচরণ করতে হবে। আমাদের বাঙালি সমাজে, বাঙালি দর্শক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটটা ভেবেই আচরণ করতে হবে। শুধু পরীমণি নয়, যেই হোক না কেন আনন্দ উদযাপন অবশ্যই করবে কিন্তু সেলিব্রেটি হিসেবে নিজের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটটা মাথায় রেখেই সংযত আচরণ করতে হবে। তাদেরকেও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আচরণ করতে হবে। এমন কোনো আচরণ যেন কোনো সেলিব্রেটি না করে যাতে পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বদনাম হয়।’
